ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত তিন মাসে পড়লেও দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি পারমাণবিক হামলা সংক্রান্ত প্রশ্নকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেন। দ্য ওয়াশিংটন নিউজ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়াই আমরা যখন প্রথাগতভাবে তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেছি, তখন কেন আমি তা ব্যবহার করব? আমি এটি ব্যবহার করবো না। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেয়া উচিত নয়।’

পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করলেও মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো নৌকাকে মাইন পাততে দেখলে সেটিকে লক্ষ্য করে সরাসরি ‘গুলি করে হত্যার’ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লেখেন, ‘এক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা করা চলবে না।’

আরও পড়ুন:

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ভারত মহাসাগর থেকে ‘এম/টি ম্যাজেস্টিক এক্স’ নামে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এটি হরমুজ প্রণালির বাইরে দ্বিতীয় কোনো জাহাজ জব্দের ঘটনা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩টি জাহাজকে তারা ঘুরিয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব বর্তমানে চরম কোন্দলে লিপ্ত। তার মতে, কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে লড়াই চলছে এবং তারা জানেই না তাদের নেতাকে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, ‘ইরানে কট্টরপন্থী বা মধ্যপন্থী বলে কিছু নেই। আমরা সবাই ইরানি ও বিপ্লবী। জাতির এই ইস্পাত কঠিন ঐক্যই আগ্রাসীকে অনুতপ্ত করতে বাধ্য করবে।’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের উপরে রয়েছে, যা ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।

এএম