ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা সেখানে বক্তব্য দেবেন। আয়োজকদের দাবি, বাইবেলের বাণী ও প্রার্থনার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় ‘ঈশ্বরের অধীনে এক জাতি’ হিসেবে উৎসর্গ করতে চান।
তবে ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের সমর্থকদের মতে, এই আয়োজন সরাসরি মার্কিন সংবিধানের লঙ্ঘন। ‘ফ্রিডম ফ্রম রিলিজিয়ন ফাউন্ডেশন’–এর সহ-সভাপতি অ্যানি লরি গেলর এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারি অর্থায়নে এই প্রার্থনা উৎসব মূলত খ্রিষ্টীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ফেডারেল সরকারের একীভূত হওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।
সমালোচকরা আঙুল তুলেছেন যে, এই অনুষ্ঠানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা শিখদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এমনকি খ্রিষ্টানদের অনেক মূল ধারার চার্চকেও এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের এক-চতুর্থাংশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাস করেন না। ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (কেয়ার) এই আয়োজনে সকল ধর্মের মানুষের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম বক্তা স্যামুয়েল রদ্রিগেজ অবশ্য এই অভিযোগের জবাবে বলেন, বক্তাদের তালিকাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিকালীন ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেরই একটি চিত্র। তবে সমালোচকরা বলছেন, ‘ফ্রিডম ২৫০’–এর এই অনুষ্ঠানগুলোতে দাসপ্রথা বা আদিবাসীদের ওপর সহিংসতার মতো ইতিহাসের কালো অধ্যায়গুলোকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিভিন্ন সময় প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা করা ধর্মীয় নেতাদের সমালোচনা করেছেন। এমনকি ট্রাম্প একবার নিজেকে যিশুর মতো উপস্থাপন করে একটি এআই ছবি পোস্ট করেছিলেন, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে তিনি মুছে ফেলেন।





