
ইরানকে ‘পরাজয় মেনে নেয়ার’ আহ্বান, মার্কিনদের জ্বালানির বেশি দাম মেনে নিতে বললেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরাজয় মেনে নেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে তেহরানকে ‘অত্যন্ত অশুভ’ বলে অভিহিত করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির উচ্চ দাম মেনে নেয়ার জন্য মার্কিন নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার দুই দেশের এই কথার লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

ইরান যুদ্ধে ২৫ শতাংশ ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩০ কোটি (১.৩ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি মূল্যের ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ধ্বংস বা অকেজো হয়ে গেছে। এই সংখ্যাটি দেশটির যুদ্ধ-পূর্ব চালকবিহীন আকাশযানের বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ। গতকাল (শুক্রবার, ১৪ আগস্ট) প্রকাশিত ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার হুমকি ট্রাম্পের; ইরান বলছে— ‘ফাঁকা বুলি’
শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে ঘোষণা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসাবে, প্রতিজ্ঞা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তার দাবি, যুদ্ধে বাজেভাবে হারছে ইরান। যদিও সবটাই ফাঁকা বুলি বলে ট্রাম্পের হুমকি খারিজ করে দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের জন্য কখনোই ক্ষমা চাইবেন না বলে গ্যাসের বাড়তি দাম মেনে নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান ট্রাম্পের।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার সিদ্ধান্ত হয়নি, জানালো ইরান
যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আজ (শনিবার, ১৫ আগস্ট) টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর কোনো সিদ্ধান্ত আমরা এখনো নিইনি।’ ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘শাহরারা নিউজকে’ দেয়া তার এই বক্তব্য পুনরায় তুলে ধরেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানকে হারানোর পরই হরমুজ প্রণালি হবে মার্কিন ভূখণ্ড—ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালিকে ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে পরাজিত করার পরই এই কৌশলগত জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হবে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া তিনি মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানির উচ্চ দাম মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকেই জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা উঠে এসেছে।

ইরানকে ‘অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতায়’ ফেলার নতুন পরিকল্পনা আনছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন’ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ শিগগিরই ঘোষণা করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করাতে ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত এটি।

ইরানকে বাগে আনতে উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধ নয়, এবার ইরানকে বাগে আনতে ভিন্ন উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই লক্ষ্যে তেহরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের নৌ অবরোধ এবং আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘ভুল হিসাব-নিকাশের’ বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান।

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা; আরামকো ও এডনকের জাহাজে হামলা
ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ-অবরোধ বজায় রাখতে পারবে এবং তেহরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে বলে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট) জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অচলাবস্থা, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা এলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলবে না’, হুঁশিয়ারি ইরানের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তেহরানের দাবি, ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজই এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওমান ও ইরানি দ্বীপে ছড়িয়ে পড়ছে তেল, হুমকির মুখে সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য
ওমান উপকূলে একটি ফুটো হয়ে যাওয়া তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে নিঃসৃত বিশাল তেলস্তর (অয়েল স্পিল) দেশটির মূল ভূখণ্ডে পৌঁছেছে। ওমানের পরিবেশ সংস্থা গতকাল (বুধবার, ১২ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়া এই তেলস্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ভুল গোয়েন্দা তথ্যের কারণে বড় ভুল করেছে যুক্তরাষ্ট্র: আরাঘচি
গোয়েন্দা তথ্যে ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই হিসাব-নিকাশে বড় ভুল করে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুদ্ধবিরতি শেষ হতে চললেও স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে আসেনি কোনো সিদ্ধান্ত
আগামী ১৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হতে চললেও, স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি ওয়াশিংটন-তেহরান। উল্টো দেশ দুটির মধ্যে মতবিরোধ যেন বেড়েই চলেছে। তাই দেশ দুটিকে একটি চুক্তিতে রাজি করাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। এদিকে, হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবি সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল গেল এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।