যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন—‘ঝড় আসার আগের শান্তি’। ছবিতে ট্রাম্পকে একজন মার্কিন অ্যাডমিরালের পাশে রণতরিবেষ্টিত উত্তাল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়, যেখানে একটি জাহাজে ইরানের পতাকা উড়ছিল। এরপর ট্রাম্প আরও একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন, যাতে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে ইরানি বিমান ভূপাতিত করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বর্তমানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’ নামক একটি অভিযানের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর মাটির নিচে পুঁতে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে কমান্ডো পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং এর জন্য হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনার প্রয়োজন হতে পারে।
পারস্য উপসাগরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ দেশটির তেল রপ্তানির মূল মেরুদণ্ড। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপে হামলা হলে তেহরানের তেল বিক্রির সক্ষমতা পুরোপুরি ধসে পড়বে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে।
চীন ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তেহরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি না হওয়া এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতভেদের কারণেই মূলত আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইসরাইলের চ্যানেল ১২–কে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা এখন কয়েক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
এদিকে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনে সাইবার হামলার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করছে সিএনএন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জাহাজ সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানকে কোনো টোল বা মাশুল দেয়া হলে তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। সব মিলিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির বদলে মধ্যপ্রাচ্য এখন আরও বড় এক সংঘাতের অপেক্ষায় দিন গুনছে।





