ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা; বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানির দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় এবং হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে আবারো জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে শেয়ারবাজারও। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বিকল্প রুটের ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি। তবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে অবশ্যই নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এ রুট অনুসরণ করতে হবে বলে বিবৃতি দিয়েছে বাহিনীটি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এশিয় বাণিজ্যে। এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম।

গত বুধবার শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার ঘোষণার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কমতে শুরু করে তেলের দাম। কিন্তু লেবাননের ওপর ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান।

তবে সমুদ্রতলে পেতে রাখা সম্ভাব্য মাইন এড়িয়ে জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে হরমুজ প্রণালীতে নতুন ও বিকল্প রুট ঘোষণা করেছে আইআরজিসি নৌ শাখা।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব জাহাজ এ প্রণালী অতিক্রম করতে চায়, তাদের আইআরজিসি নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম।

আরও পড়ুন:

ফলে বিশ্বব্যাপী বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাড়ায় ৯৬ দশমিক ৭ ডলারে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ৯ ডলারে পৌঁছেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও অনেক বেশি।

ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ সিম মোহ শিয়ং বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এমন ভঙ্গুর যুদ্ধবুরতির কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এদিকে তেহরান কীভাবে জাহাজ চলাচল তদারকি করার পরিকল্পনা করছে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি চালানের প্রবাহই বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে।

অন্যদিকে, কনসালটেন্সি সংস্থা ফ্রন্টিয়ার ইকোনমিকসের ড্যানি প্রাইস বলেন, যুদ্ধে তেল ও গ্যাস স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে সময় লাগবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং বাণিজ্য খরচ বাড়িয়ে দেবে।

এ অনিশ্চয়তার প্রভাব এরই মধ্যেই এশিয়ার শেয়ারবাজারে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির পর স্বল্পমেয়াদি উত্থান দেখা গেলেও, দ্রুতই বাজার নিম্নমুখী হয়েছে। জাপানের নিক্কেই ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে হয়েছে ২২৫ সূচক, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ১ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিরই প্রতিফলন।

এফএস