আগের নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ ই-ভোটিং সিস্টেমেই হচ্ছে এবারের নির্বাচন

বিসিবির লোগো
বিসিবির লোগো | ছবি: এখন টিভি
0

গেলো নির্বাচনে ই-ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। তবে এবার বিসিবি নির্বাচনের আগে গুঞ্জন উঠেছে তিনিই নাকি অনলাইনে ভোট দেয়ার আবেদন করেছেন। সবমিলিয়ে দুই ক্যাটাগরি থেকে ই-ভোট দিচ্ছেন ৪২ জন কাউন্সিলর। এতে আরও একবার প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে। কাউন্সিলরদের অন্ধ বিশ্বাস করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই—বলছে নির্বাচন কমিশন।

‘৩৪টি ই-ভোটিং আর ওই ৩৪ জনই কিন্তু সেন্টারে ছিলেন।’—২০২৫ সালের বিতর্কিত বিসিবি নির্বাচনে ই-ভোট নিয়ে এভাবেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তামিম ইকবাল। অথচ তার নেতৃত্বাধীন অ্যাড-হক কমিটি যখন আরেকটি নির্বাচনের পথে হাঁটছে তখন আরও একবার প্রশ্ন উঠেছে সেই ই-ভোট নিয়েই।

যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে বুলবুলের বোর্ড ভেঙে দিয়ে অ্যাড-হক কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তার মধ্যে অন্যতম ছিলো ই-ভোটিং বিতর্ক। অথচ এবারও ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরির ৭৬ কাউন্সিলরের মধ্যে ৩৯ জনই আবেদন করেছেন অনলাইনে ভোট দেয়ার।

ক্যাটাগরি-১ থেকে এসেছে আরও ৩টি আবেদন। এতগুলো ই-ভোটের আবেদনে প্রশ্ন জাগে স্বাভাবিকভাবেই— তবে কি আরও একবার বিতর্কিত নির্বাচনের পথেই হাঁটছে বিসিবি?

জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক সেকান্দার আলী বলেন, ‘টোটাল সংখ্যাটা যদি ৩৯ হয়, অর্থাৎ ম্যাক্সিমাম ভোট হয় পাশ করানোর জন্য; ১২ জনকে ভোট দিয়ে পাশ করানোর জন্য যদি সংখ্যাটা এমন হয়, তাহলে সেটা একটা দৃষ্টিকটু এবং লজ্জাজনক মনে হয় আমার কাছে। কারণ সেক্ষেত্রে দুষ্টু উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।’

তিনি বলেন, ‘বিসিবির মিটিং বা এজিএমের জন্য যদি আপনি দূর থেকে এখানে আসতে পারেন, তাহলে ভোট দেয়ার জন্য আসাটা খুব বড় কোনো ব্যাপার নয়। আপনি আন্দোলন করতে আসতে পারেন, কিন্তু ভোট দেয়ার জন্য আসতে পারবেন না, এটা মেনে নেয়া যায় না।’

আরও পড়ুন:

গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর পাশাপাশি ই-ভোট বিতর্ককেও খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না বর্তমান কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন এটিকে কীভাবে দেখছে? ঢাকায় অবস্থান করেও অনলাইনে ভোট দেয়ার বিষয়ে তাদের ভাবনা কী? ই-ভোটের নিয়মকানুন ঠিকমতো মানছেন কি না কাউন্সিলররা, সেটিই বা কতটুকু নিশ্চিত করতে পারছেন তারা?

বিসিবি নির্বাচন কমিশনার এহছানুল মামুন বলেন, ‘ই-ব্যালট যাচ্ছে, সেখানে কয়েকটি বিষয় সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, তার মধ্যে একটি হচ্ছে—অবশ্যই এই ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে ই-ভোট দেয়া যাবে না। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং গোপনীয় ব্যাপার হিসেবে এটি নিশ্চিত করতে হবে। এই ই-ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রার্থী তাকে প্রভাবিত করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘যারা আবেদন করেছেন, তারা নিশ্চয়ই আসতে পারবেন না বলেই আবেদন করেছেন। একজন কাউন্সিলর যখন ভোট দেবেন তখন তাকে এইটুকু দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতেই হবে।’

গুঞ্জন আছে, স্বয়ং বিসিবি প্রধান তামিম ইকবালও ই-ভোটের আবেদন করেছেন। সেটি অবশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি এনএসসি মনোনীত নির্বাচন কমিশনার। তিনি বললেন, কারা ই-ভোট দিচ্ছেন সেটা জানারও সুযোগ নেই তাদের।

‘ই-ভোটিংয়ের যে ব্যালট, এটা আমরাও যারা নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আছে, তারাও কিন্তু ৭ তারিখ দুপুর ১টার আগে নিশ্চিত হতে পারবেন না বা দেখতে পারবেন না, এর কোনো সুযোগ নেই। এটা খোলা হবে দুপুর ১টার পরে।’

সবমিলিয়ে ই-ভোট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কোনোপ্রকার সমাধান ছাড়াই ৭ জুনের নির্বাচনের পথে হাঁটছে বিসিবির নির্বাচন কমিশন।

এসএইচ