তিনি আরও বলেন, প্রয়াত আয়াতুল্লাহর পুত্র মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ব্যর্থ হয়েছে।
গতকাল (সোমবার, ৯ মার্চ) রাতে সম্প্রচারিত পিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাস্তবসম্মত কোনো শেষ লক্ষ্য নেই এবং তারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা ভেবেছিল দুই–তিন দিনের মধ্যে শাসন পরিবর্তন ঘটাতে পারবে, দ্রুত ও পরিষ্কার এক বিজয় পাবে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। শুরুর দিকেই তারা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন ১০ দিন পর, আমার মনে হয় তারা এখন দিশাহীন।’
সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ও বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আরাগচি বলেন, ‘তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির জন্য ইরান দায়ী নয়। এটি আমাদের পরিকল্পনা নয়। তেল উৎপাদন ও পরিবহন কোথাও কোথাও ধীর বা বন্ধ হয়েছে আমাদের কারণে নয়, বরং ইসরাইলি ও মার্কিনিদের হামলা ও আগ্রাসনের কারণে এটা হয়েছে। তারা পুরো অঞ্চলকে অনিরাপদ করে তুলেছে। এ কারণেই ট্যাংকার ও জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে।’
তিনি আর বলেন, ‘আমরা ওই প্রণালি বন্ধ করিনি। সেখানে নৌচলাচলও বাধা দিচ্ছি না। এটি ইসরাইলি ও মার্কিন আগ্রাসনের ফল।’
পিবিএসের উপস্থাপক আমনা নওয়াজ ইরানি সামরিক বাহিনীর অন্য দেশের একাধিক তেল স্থাপনায় বিমান হামলার প্রসঙ্গ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের এক মুখপাত্রের ‘প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারের বেশি সহ্য করতে পারলে এ খেলা চালিয়ে যান’ মন্তব্য তুলে ধরলে আরাগচি বলেন, ‘আমরা যা করছি, তা কেবল আত্মরক্ষা। আমরা একটি সম্পূর্ণ অবৈধ আগ্রাসনের মুখোমুখি। আমাদের পদক্ষেপ আত্মরক্ষামূলক, যা বৈধ ও ন্যায্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগেই অঞ্চলটির সবাইকে সতর্ক করেছি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা আমেরিকার ভূখণ্ডে পৌঁছাতে না পারায় অঞ্চলে তাদের ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদে আঘাত হানতে বাধ্য হব। ফলে যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পরিণতি। এর জন্য আমরা দায়ী নই।’





