Recent event

ইরানে ডলার ঘাটতি সৃষ্টির কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের নাগরিকদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সামিল করতে কৌশলে দেশটিতে ডলার ঘাটতি সৃষ্টি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি এটি স্বীকার করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দরপতন ঘটাতে কাজ করছিল মার্কিন অর্থ বিভাগ। এ লক্ষ্যে দেশটির প্রধান রপ্তানিমুখী তেল শিল্পের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতার মসনদে বসার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রোষানলে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন নিশ্চিতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপই অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। গেল বছর তেহরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে ছিল তেহরানের অর্থনীতি।

ইরানের মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেশটিকে একের পর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত করে ট্রাম্প প্রশাসন। যার ফলে গেল ডিসেম্বরে ডলারের বিপরীতে ব্যাপক দরপতন ঘটে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের। মুদ্রাস্ফীতি অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছানোয় শুরুতে তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেয়। পরে রাস্তায় নামে ইরানের নাগরিকরাও। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইরান সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন চালালে, এটি রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। প্রাণ হারায় কয়েক হাজার মানুষ।

আরও পড়ুন:

যদিও শুরু থেকেই খামেনি প্রশাসনের দাবি, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ধীরে ধীরে সামনে আসছে ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় মার্কিন নীলনকশার খবর।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের অর্থনীতিকে ধরাশায়ী করতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল ছিল। গেল ডিসেম্বরে এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে, যখন ইরানের একটি বৃহৎ ব্যাংক ব্যাপক ধসের মুখে পড়ে। এসময় দেশটির মুদ্রার মান তলানিতে পৌঁছায় ও ইরানের জনগণ রাস্তায় নামে।

সাধারণত অন্য কোনো দেশ থেকে পণ্য কেনার জন্য একটি রাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত মার্কিন ডলার না থাকলে, সেটি অর্থনীতির ভাষায় ডলার ঘাটতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যুক্তরাষ্ট্রের মূল টার্গেটে ছিল তেহরানের তেল খাত। কেননা তেল শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে পারলে দেশটির অর্থনীতির ভিত্তি ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। এ লক্ষ্যে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি তেহরানের থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়া হয়। এতে করে তেহরানের রাজস্ব ঘাটতি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায় এবং দেশটি বাইরের দেশ থেকে পণ্য কেনার সক্ষমতা হারায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডলার কারসাজির ফলে জানুয়ারিতে মাত্র ১ ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ রিয়েল। যা গত বছরের জানুয়ারিতে ছিল ৭ লাখ রিয়াল।

ইএ