একনজরে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সক্ষমতা ২০২৬
জ্বালানির ধরন (Fuel Type) মজুদ পরিমাণ (Current Stock) কতদিন চলবে (Duration) ডিজেল (Diesel) ১,৮৫,০০০ টন ১৪ দিন অকটেন (Octane) ১১,০০০ টন ৯ দিন পেট্রোল (Petrol) ১৬,৬০৫ টন ১১ দিন জেট ফুয়েল (Jet Fuel) ৩৪,৮৭৭ টন ২৩ দিন ফার্নেস অয়েল (Furnace Oil) ৭০,৮৩৩ টন ২৯ দিন
আরও পড়ুন:
জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদ চিত্র (Current Fuel Stock Position)
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (BPC) এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুদ পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
- ডিজেল (Diesel): দেশে ডিজেলের সবচেয়ে বেশি চাহিদা। বর্তমানে ১ লাখ ৮৫ হাজার টন ডিজেল মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী ১৪ দিন সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব।
- অকটেন (Octane): বর্তমানে মজুদের পরিমাণ ১১ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলবে।
- পেট্রোল (Petrol): ১৬ হাজার ৬০৫ টন মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী ১১ দিন চাহিদা মেটানো যাবে।
- জেট ফুয়েল (Jet Fuel): উড়োজাহাজের জ্বালানি মজুদ আছে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা দিয়ে ২৩ দিন চলবে।
- ফার্নেস অয়েল (Furnace Oil): বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এই তেলের মজুদ আছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা চলবে ২৯ দিন।
- কেরোসিন (Kerosene): মজুদ আছে ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিন সরবরাহ সম্ভব।
আরও পড়ুন:
সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেন? (Reasons for Supply Uncertainty)
বিপিসি সূত্র জানায়, চলতি মাসে ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) বন্ধের ঘোষণা এবং বড় বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো তেল দিতে না পারায় আমদানির সূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। এছাড়া সৌদি আরব থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) চালানও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
সরকারের বক্তব্য ও উদ্যোগ (Government Initiatives)
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে এখনো তেলের বড় ধরনের সংকট (Fuel Shortage) তৈরি হয়নি। তবে আতঙ্কে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে (Filling Stations) সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এপ্রিল ও মে মাসের জন্য নতুন আমদানি পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে খোলাবাজার (Open Market) থেকে পরিশোধিত ডিজেল কেনা হবে।
আরও পড়ুন:
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মেগা পরিকল্পনা: এপ্রিলে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্য, পাম্পে নজরদারি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি তেলের (Fuel oil) সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এপ্রিল ও মে মাসের জন্য বিশাল আমদানির সূচি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (BPC)। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং জাহাজ জটিলতায় শতভাগ আমদানির নিশ্চয়তা এখনো না মেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে (Filling stations) ভিড় ও অস্থিরতা বাড়ছে।
এপ্রিল ও মে মাসের আমদানির রোডম্যাপ (Import Roadmap for April-May)
বিপিসি সূত্র জানায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে এপ্রিলে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে বিশাল অংকের জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা (Import planning) রয়েছে।
এপ্রিলের লক্ষ্যমাত্রা: ৩ লাখ টন ডিজেল (Diesel), ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল (Jet fuel), ২৫ হাজার টন অকটেন (Octane) এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।
বর্তমান অবস্থা: এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা (Supply assurance) মিলেছে।
মে মাসের পরিকল্পনা: ১৭টি জাহাজে সাড়ে ৩ লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আসার সূচি রয়েছে, তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।
আরও পড়ুন:
ফিলিং স্টেশনে অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকট (Instability at Filling Stations)
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (Petrol Pump Owners Association) জানিয়েছে, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ কম হওয়ায় অনেক পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত তিন প্রতিষ্ঠান— পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল (Padma, Meghna, and Jamuna Oil)—এর মাধ্যমে সারাদেশে আড়াই হাজার পাম্পে তেল পাঠানো হচ্ছে, তবে ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেক পাম্প সময়মতো পে-অর্ডার জমা দিতে না পেরে তেল সংগ্রহ করতে পারেনি।
একনজরে এপ্রিলে জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ২০২৬
জ্বালানির ধরন (Fuel Type) লক্ষ্যমাত্রা (Target Amount) নিশ্চয়তা মিলেছে (Assured Amount) ডিজেল (Diesel) ৩,০০,০০০ টন ১,১০,০০০ টন (এখন পর্যন্ত) অকটেন (Octane) ২৫,০০০ টন প্রক্রিয়াধীন জেট ফুয়েল (Jet Fuel) ৫০,০০০ টন প্রক্রিয়াধীন ফার্নেস অয়েল (Furnace Oil) ৫০,০০০ টন প্রক্রিয়াধীন
আরও পড়ুন:





