চার বছর পর গেল ১৫ মে ভারতে প্রথমবারের মতো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় মোদি সরকার। চার দিন পর আরেক দফায় বাড়ানো হয় জ্বালানির দাম। সবশেষ শনিবার তৃতীয়বারের মতো বাড়ানো হলো পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজির দাম। সব মিলিয়ে লিটারপ্রতি জ্বালানির মোট দাম বেড়েছে প্রায় পাঁচ রুপি।
নতুন দামে রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম বেড়ে ৯৯ দশমিক ৫১ রুপি এবং ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৯২ দশমিক ৪৯ রুপি। এছাড়া দিল্লিতে সিএনজির দামও প্রতি কেজিতে বেড়েছে এক রুপি।
দিল্লি ছাড়াও কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাইসহ বড় বড় শহরেও বেড়েছে জ্বালানির দাম। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত, গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারীরা চাপে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি।
গ্রাহকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধিতে সবার ওপরই এর প্রবাহ পড়েছে। অর্থনৈতিকভাবে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এতে চাপের মুখে ভারতের রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ও বেসরকারি তেল কোম্পানিগুলো। দেশটির সরকারি সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় প্রতি লিটার পেট্রোলে ২৪ রুপি এবং ডিজেলে ৩০ রুপি পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে জালানির মূল্যবৃদ্ধিতে দিল্লিতে চলছে তিন দিনের পরিবহন ধর্মঘট। পরিবহন মালিক-শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনসের ব্যানারে ৬৮টিরও বেশি পরিবহন ইউনিয়ন চাক্কা জ্যাম প্রতিবাদে নেমেছে। তাদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও, গেল প্রায় ১৫ বছর ধরে দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চলে অপরিবর্তিত রয়েছে গণপরিবহনের ভাড়া।
ধর্মঘটের কারণে একদিকে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল। এতে দিল্লিসহ আশপাশের অঞ্চলে বড় ধাক্কা লেগেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে এশিয়ার অন্যতম বড় ফল ও সবজির বাজার দিল্লির মান্ডিতে। ধর্মঘটের কারণে বাজারের ঢুকছে না পণ্যবাহী গাড়ি। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। কাঁচামাল সংকটে ক্ষতির মুখে পড়ছে শিল্প-প্রতিষ্ঠানও।
শিল্প-প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবহন ধর্মঘটের বারণে সময়মতো শিল্পের কাঁচামাল ফ্যাক্টরিতে আসছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য উৎপাদন। সময়মতো পণ্য সরবরাহও করা যাচ্ছে না।’
অন্য একজন বলেন, ‘দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার। তবে সেই অনুযায়ী পরিবহণ ভাড়া বাড়ানো দরকার। সরকারকে বিষয়টি দেখতে হবে।’
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা এই অবস্থা চলতে থাকলে বড় সংকট দেখা দিবে সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। এরইমধ্যে দিল্লি সরকারের কাছে দাবিদাওয়া তুলে ধরেছে পরিবহন সংগঠনগুলো। শিগগিরই কোনো পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি জানিয়েছে তারা।




