এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে গেল দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে। রোববার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশ কমে বিক্রি হচ্ছে ৯৭ দশমিক ৯৪ ডলারে।
প্রায় ৭৮ দিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত বন্ধ জাহাজ চলাচল। জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের জেরে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এরমধ্যে আছে, গণপরিবহন ব্যবহারে নাগরিকদের উৎসাহ দেয়া, জ্বালানির অপচয় রোধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের গাড়িবহর কমানো, বিদেশ ভ্রমণে অনুৎসাহিত করার মতো উদ্যোগ। কিন্তু এত কিছুর পরেও ভারতের ঊর্ধ্বমুখী তেলের বাজার।
গেল ১১ দিনে ৪ দফা জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ভারতে। ১৫, ১৯, ২৩ এবং সবশেষে আজ ২৫ মে- ৪ ধাপে পেট্রোল ডিজেলের দাম বেড়েছে ৭ রুপিরও বেশি। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থাগুলো প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৬১ রুপি আর ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৭১ রুপি বাড়িয়েছে। এর জেরে দিল্লিতে এখন প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১০২ দশমিক ১২ রুপি আর ডিজেল ৯৫ দশমিক ২০ রুপি। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলোকে অতীতের লোকসান পুরোপুরি পুষিয়ে নিতে হলে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম তাত্ত্বিকভাবে প্রতি লিটারে আরও ২৮ থেকে ৩৩ রুপি বাড়াতে হবে।
আরও পড়ুন:
যদিও ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক প্রবণতার তুলনায় অনেকটাই কম। হরমুজে অচলাবস্থা শুরুর পর গেল ৭৮ দিনে বিশ্বের কোথাও কোথাও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৯০ শতাংশেরও বেশি হারে। যেমন এই অচলাবস্থার মধ্যে, মিয়ানমারে পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ, আর প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। খোদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কোথাও কোথাও এই দর বৃদ্ধির হার ছিল ২০ শতাংশের বেশি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মানি এক্সচেঞ্জ রেট অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী, পেট্রোলের গড় দাম এখন প্রতি লিটারে প্রায় ১৩০ রুপি। ইউরোপীয় কয়েকটি দেশে তা ১৮০ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। বিপরীতে, ভর্তুকি-বিহীন দেশগুলোর মধ্যে ভারতে জ্বালানি তেলের মূল্যস্তর সর্বনিম্নগুলোর মধ্যে একটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তি চুক্তির কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে এমন খবরে দুই মাসের ও বেশি সময়ের মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রেকর্ড দরপতন হয়েছে। রোববার ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৭ দশমিক ৯৪ ডলারে। যা এপ্রিলের তুলনায় ৯ শতাংশ কম, যদিও ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের তুলনায় এই দাম এখনও এক-তৃতীয়াংশের বেশি।
যদিও এতে খুব একটা আশ্বস্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আল-জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় দৈনিক ১০-১১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন বন্ধ থাকছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে আবারও প্রকট হবে জ্বালানির বাজারে। তবে হরমুজ সচল হলে বন্দরে আটকে পড়া জাহাজ থেকে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের একটি চালান পাওয়া যাবে। তখন তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।





