আজ (সোমবার, ২৬ মে) রাতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘নজরুল ছিলেন সময়ের কবি। তিনি রাজনীতি বুঝতেন। তিনি জানতেন যে শুধু খিলাফত আন্দোলন বা অসহযোগ আন্দোলন দিয়ে ব্রিটিশদের তাড়ানো যাবে না। আর এই চিন্তা থেকেই “কারার ঐ লৌহ-কপাট” কবিতাটি তার অন্যতম প্রধান আদর্শ হয়ে উঠেছিল।’
নজরুলের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জিঞ্জির ভাঙতে হলে জঞ্জিরেই আঘাত করতে হয়। আর আঘাত করলেই সেই জিঞ্জির খুলে যায়—এটাই ছিল নজরুলের মূল কথা।’
আরও পড়ুন:
ভাষার মিশ্রণে নজরুলের দক্ষতার প্রশংসা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘নজরুলের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল ভাষার মিশ্রণ। আরবি, ফারসি, উর্দুসহ সব ভাষাকে বাংলার সঙ্গে যেভাবে ব্লেন্ড করে তিনি কবিতা লিখেছেন, পৃথিবীতে এমনটা আর কোনো কবি করতে পেরেছেন বলে আমার মনে হয় না। তার কবিতার সুর ও স্বকীয়তা অন্য কোনো দেশের সুরের সঙ্গে মেলানো যায় না। তিনি মাটি ও মেহনতি মানুষের মধ্য থেকে উঠে এসেছেন এবং তাদেরই ভাষা ও চিন্তাকে কবিতার মাধ্যমে প্রস্ফুটিত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘নজরুল আমাদের জাতীয় কবি হলেও তাকে যেভাবে বোঝা এবং আলোচনা করা দরকার ছিল, তা আমরা করতে পারিনি। কখনো আমরা তাকে শুধু বিদ্রোহী ভাবি, কখনো প্রেমিক, আবার কখনো সাম্যের কবি। এই বিভিন্ন রূপের পেছনে যে গভীর দর্শন রয়েছে, তা যদি আমরা ধারণ ও বিশ্লেষণ করতে পারি, তবে বর্তমান বাংলাদেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।’
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল নাজরান রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
আলোচনা সভা শেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবির সাহিত্যকর্ম পাঠের মধ্য দিয়ে তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও দ্রোহের বাণী নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরা হয়।





