এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানীসহ আশেপাশের অনেক জেলার বাসিন্দারা। ভোর থেকে মধ্যরাত অবধি গ্যাস না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে গৃহস্থালি কাজ। ফিলিং স্টেশনেও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, কেরানীগঞ্জসহ বেশকিছু এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। ভোর থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত তীব্র থাকে এ সংকট। গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না হয় এক চুলা জ্বালিয়ে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দুপর ১২টা পর্যন্ত গ্যাস খুব কম থাকে, যেটা দিয়ে কখনো কখনো এক চুলাতেও রান্না সম্ভব হয় না।
এদিকে সকাল থেকে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যানবাহনগুলোকে। কয়েকটিতে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ফিলিং স্টেশন।
আরও পড়ুন:
গ্যাস সংকটে সিএনজিচালিত পরিবহণ খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চালকরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চাহিদার মাত্র অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাসের অভাবে ভাড়ার গাড়ি চালাতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল থেকে আগামী শুক্রবার আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। পুরো চালু হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এদিকে বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকট কেটে যাবে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও স্থাপনা প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বাইরে থেকে বুধবারের মধ্যে আসার কথা রয়েছে। সেগুলো আসলে আশা করছি, আগামী শুক্রবারের মধ্যে আমরা একটা রেজাল্ট পাবো।’
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘দুর্ঘটনাটা আরও বড় হতে পারতো। সেসময় একটা কার্গোও কিন্তু কাছাকাছি ছিলো। খুব দ্রুত সময়ে আমরা ওই কার্গোটা সরিয়ে দিতে পেরেছি। আমরা মনে করছি, আগামী সপ্তাহে যদি, তারা যেটা আশা করছে যে, তারা যদি ৫০ শতাংশ সাপ্লাই রি-স্টোর করতে পারে, তাহলে এর পরের সপ্তাহেই তারা ১০০ ভাগ রি-স্টোর করতে পারবে।’
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূলত সে কারণেই গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।





