রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রায় এক কোটি আশি লাখ মানুষের বাস। বিপুল এ জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তবে তিস্তা বিধৌত কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলায় ভোটারের আনুপাতিক হিসেবে নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান।
সবশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৭ জন। তালিকা অনুযায়ী, জেলায় নারী ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪ জন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জনে।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের উত্তাপ আর প্রতিশ্রুতির বিপরীতে নারীদের মনে এখনো সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার ভয়। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ আশা জাগালেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে স্বপ্ন ফিকে হয়েছে তাদের।
স্থানীয় নারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘নারীদের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত হতো, তাহলে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেমন-ইভটিজিং, হয়রানি ইত্যাদি ঘটতো না।’
আরও পড়ুন:
আরেকজন নারী বলেন, ‘আমি যে একজন নারী হিসেবে কর্মসংস্থানে আসছি, আমাকে এখানে সমান অধিকার না দিলেও যাতে অন্তত এটুকু নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাটুকু দেয়া হয় যে, আমি আমার পরিবারের কাছে সুস্থভাবে ফিরে যেতে পারি।’
এদিকে লড়াই-সংগ্রাম থেকে শুরু করে ভোটের মাঠ— সব জায়গায় নারীদের অধিকার উপেক্ষিত বলে জানান এই সমাজকর্মী। সংকট সমাধানে রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি অধিকার আদায়ে নারীদেরও সচেতনতা দরকার বলে মত তার।
শিক্ষক ও সমাজকর্মী শাহারিয়া সিদ্দিকী বলেন, ‘যখন প্রয়োজন তখন আপনি নারীদের ঠিক লিড পজিশনে রাখছেন, সেটা সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হোক বা জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও আমরা দেখেছি—নারীরা সব সময়ই সামনে। কিন্তু যখনই অধিকারের কথা আসছে, নেতৃত্বদানের কথা আসছে, নারীদের সেখানে আপনি পাচ্ছেন না।’
গবেষণা সংস্থা সানেমের জরিপ বলছে, রংপুরের কর্মজীবী নারীদের মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ কেবল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষিত। আর পেশাগতভাবে সবচেয়ে বেশি ৫৩ দশমিক ০৮ শতাংশ নারী কাজ করেন কৃষি, মৎস্য ও বনজ শিল্পে। তবে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা এই গণমাধ্যমকর্মী মনে করেন, নারীর কর্মসংস্থান হলেও নিশ্চিত হয়নি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।
গণমাধ্যমকর্মী লাবনি ইয়াসমিন লুনি বলেন, ‘ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে, কিন্তু ক্ষমতায়নের যে জায়গাটা, সেখানে আসলে নারীদের অবস্থাটা খুবই নাজুক। টাকা খরচ করার সেই অধিকারটা কিন্তু নারীর নেই। সেই সিদ্ধান্তটাও এখনও পুরুষরা নেয়। মুক্তি মানে কি আমি বাইরে গিয়ে কাজ করলাম, শুধু সেটা?’
রংপুর বিভাগের একমাত্র রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ‘উত্তরা ইপিজেডে’ কর্মসংস্থান হয়েছে ৩০ হাজার কর্মীর মধ্যে ৬৬ শতাংশই নারী। এছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, বেসরকারি খাত কিংবা গৃহস্থালির কাজে নারীর অবদানও নেহায়েত কম নয়।
নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশে ন্যায্যতার ভিত্তিতে নারীদের সবক্ষেত্রে সমতা, সামাজিক মর্যাদার বাস্তবায়ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা এ অঞ্চলের নারী ভোটারদের।





