ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলা; মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাত

অজ্ঞাত এক স্থানে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়ছে
অজ্ঞাত এক স্থানে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়ছে | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ পুনর্বহালের পর বুধবার দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে দুই দফায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। আমেরিকার সঙ্গে এই সংঘাতকে ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল। এতে যেমন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনি ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার নতুন হুমকি দিয়েছে।

গত শনিবার ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার কথা জানানোর পর থেকে বৈরিতা তীব্র হয়েছে। সামরিক অভিযানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৯৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের গ্রেটার তুম্ব দ্বীপে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এর নয় ঘণ্টা পর একাধিক শহরে দ্বিতীয় দফার হামলা চালানো হয়।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, ‘মার্কিন বাহিনী ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।’ এছাড়া বন্দর আব্বাসেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এটি ইরানের বৃহত্তম বন্দর এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।

এদিকে আইআরজিসি বুধবার জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানসহ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বাহিনীটি জানায়, কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের একটি সমাবেশ এবং একটি রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে চালানো এই হামলাগুলোর লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।

মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, খালি একটি তেলের ট্যাংকার একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে অকেজো করা হয়েছে। মঙ্গলবার নৌ অবরোধ শুরুর পর এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দুটি জাহাজের গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং আরেকটি অকেজো করেছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বন্দর আব্বাসসহ উপকূলীয় এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ছাড়া আহভাজ শহর এবং দক্ষিণ ইরানের কোনারাক, সিরিক ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ বা প্রজেক্টাইলের আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। তেহরান থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে খোন্দাব শহরেও অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রেস টিভি জানিয়েছে। ‘বৈরী হুমকি’ মোকাবিলায় তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানিয়েছে মেহের বার্তা সংস্থা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, মার্কিন হামলাগুলো আহভাজের একটি হাসপাতালের কাছে আঘাত হেনেছে, যেখানে শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। এর ফলে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে খালি করতে হয়।

প্রথম দফার হামলার পর তেহরানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আমেরিকার সঙ্গে একটি অপরিহার্য ও অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত।’

এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শুধু জুলাই মাসেই মার্কিন হামলায় ৩৫ জনের প্রাণ গেছে বলে তাসনিম জানিয়েছে।

এএম