আজ (বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকায় জুলাই আন্দোলনে নিহত ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ওয়াসিমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি নিজে জুলাইয়ের স্বপক্ষের একজন ব্যক্তি, একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন রাজপথের কর্মী। আমি চাই, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, যারা নির্দেশদাতা ছিল এবং যারা মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশ পালন করেছে, তাদের সবার বিচার হোক। একইসঙ্গে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডসহ শেখ হাসিনার আমলে সংঘটিত সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘শুধু কাগজে-কলমে বিচার হলেই হবে না, সেই বিচার কার্যকরও করতে হবে। আর সেই রায় কার্যকর করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমি নিজে সরকারপ্রধানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো এবং দ্রুততম সময়ে তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবো।’
হত্যাকারীরা এখনও দেশের বাইরে থেকে দেশে ফিরে আসার হুমকি দিচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা সংগ্রাম করেছেন এবং যাদের ভাইদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের দৃষ্টিতে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা যদি কোনোদিন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসে, তবে রাজনীতি করা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা মাত্রই জনগণকে সাথে নিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য যা যা করণীয়, সবকিছু করা হবে।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলনে অংশ নেয়া কোটি কোটি যুবক এখনও জীবিত রয়েছেন। বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা তাদের ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে বসে আছি। তারা আসুক বাংলাদেশে, আমরাও দেখিয়ে দেবো যে বাংলাদেশের জনগণ কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জানেন; যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আমরা দেখিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘২০২৪ সালের আজকের এই দিনে (১৬ জুলাই) আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ ছয়জন শহিদ হয়েছিলেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মাইলফলক। তারা আমাদের পথ দেখিয়েছিলেন যে জুলাই আন্দোলন থেকে আর পেছনে ফেরার কোনো পথ নেই। প্রায় দুই হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।’
ওয়াসিমের কবর জিয়ারতকালে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ (এনডিসি), পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ওয়াসিমের বাবা, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম। তিনি পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।




