দেশিয় লবণ শিল্পের সুরক্ষায় খাবার লবণ আমদানি নিষিদ্ধ। কিন্তু শিল্পখাতে চামড়া, কাঁচ, পেপার, ওয়াশিং প্ল্যান্ট, টেক্সটাইল ও ওষুধসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যব্হার হয় সোডিয়াম সালফেট। যা আমদানি করা হয় পৃথক এইচএস কোডএ।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এক দশক ধরে রাসায়নিক পরীক্ষার সনদ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে শিল্পপণ্য সোডিয়াম সালফেট আমদানি করেছেন তারা।
কিন্তু ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এনবিআর এক অফিস আদেশে জানায়, শিল্পের নামে খাবার লবণ আমদানি করে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ আছে। তাই রাসায়নিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে আমদানিনীতি আদেশ মেনে চালান খালাসের নির্দেশনা দেয়।
এরপরই বাধে বিপত্তি। বাণিজ্যিকভাবে আমদানি করা সোডিয়াম সালফেটের খালাস স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় চারশো কনেটইনার সোডিয়াম সালফেট বন্দর ও ডিপোতে পড়ে আছে। যার মূল্য সাড়ে তিনশো কোটি টাকা।
আরও পড়ুন
আমদানিকারক ইছা চৌধুরী বলেন, ‘যখন পোর্টে আসে তখন বললো এইটা লবণ, এইটা ছাড়া যাবে না। ৪০০ কন্টেইনার, প্রায় ১০,৮০০ টন প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার মালামাল। আমরা যেখানে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ৯৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ রাজস্ব দিয়ে মালগুলা রিলিজ করতাম।’
আমদানিকারকদের দাবি, রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়ে ৯৪ শতাংশ শুল্ক কর দিয়ে সোডিয়াম সালফেট আনছেন তারা। তাদের অভিযোগ- শিল্প মালিকদের অনেকে বন্ড লাইসেন্সের আওতায় মাত্র ৫ শতাংশ শুল্কে আমদানি করে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন ।
আমদানিকারক চন্দন তলাপাত্র বলেন, আমরা তো কমার্শিয়াল এজ। আমরা গভমেন্টের সম্পূর্ণ আমদানি নীতি মেনে ইম্পোর্ট করেছি। তাহলে আমাদের মালটা আটকাবে কেন? আমরা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। সরকার যে সিস্টেম যেভাবে চায় সেভাবে টেস্ট করে রিপোর্ট নিয়ে আমার মালটা ছেড়ে দিবে। এইটাই তো কথা। এ কন্ডিশনে যদি ইম্পোর্ট বন্ধ থাকত তাহলে তো আমার ব্যাংক এলসিটা ওপেন করত না।’
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, ‘৯৩ শতাংশ ডিউটি দিয়ে খাদ্য লবণ বিক্রি করা এত দামে, এটা একটা অযৌক্তিক ব্যাপার। এখানে যে খাদ্য লবণকে প্রোটেকশন দেয়ার জন্য কমার্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ বন্ধ করেছে, এটার সঙ্গে যুক্তি মিলে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল যাদের লাইসেন্স আছে তারা আবার কিনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে।’
আরও পড়ুন
কাস্টম কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি নীতি আদেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে মামলা চলমান থাকায় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায় হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার শরীফ আল আমিন বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের সনদ লাগবে কি লাগবে না, যেহেতু আমদানি নীতি আদেশ ২০২১ থেকে ২০২৪ এর অনুচ্ছেদ ২৫ এ এটা বলা আছে যে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সনদ লাগবে, ক্লিয়ারেন্স লাগবে, তাই এটা প্রয়োজন।’
বছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ৫ লাখ টন শিল্প লবণ আমদানি হয়। ভুক্তভোগী আমদানিকারকের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে দুই দফা এসব চালান খালাসের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে কাস্টম কর্তৃপক্ষের আপিলে চেম্বার আদাল বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে নিস্পত্তির আদেশ দেন। যদিও পাঁচ মাসেও হয়নি শুনানি।





