অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে থমকে আছে সিজার সেবা, বিপাকে রোগীরা

ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র | ছবি: এখন টিভি
0

ঠাকুরগাঁও মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রসূতি নারী ও তাদের স্বজনরা। বাধ্য হয়ে অনেকেই যেতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে, গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। পাশাপাশি রয়েছে ওষুধ সংকট ও অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে থাকার অভিযোগ।

সদর উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন গর্ভবতী মা ও শিশুরা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে আসেন ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। কিন্তু অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। ফলে অনেক প্রসূতি বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে। এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, যা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে।

এক সময় এ অপারেশন থিয়েটারে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি সিজারিয়ান অপারেশন হতো। কিন্তু অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় এখন বন্ধ রয়েছে পুরো কার্যক্রম। প্রস্তুত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে অপারেশন থিয়েটার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রেজা হাবিব চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন।

রোগী ও স্বজনরা জানান, ডাক্তার না থাকায় যেন কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না। তেমনি কোনো ওষুধের ব্যবস্থা ও নেই বলেন তারা।

শুধু চিকিৎসক নয়, রয়েছে ওষুধ সংকটের অভিযোগও। রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওষুধ প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। এদিকে গুরুতর অসুস্থদের পরিবহনের জন্য থাকা অ্যাম্বুলেন্সটিও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে গ্যারেজে। কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি তেল বাবদ বরাদ্দ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. লাবনী বসাক বলেন, ‘আপাতত সিজারিয়ান সেকশনটা আমাদের এখানে বন্ধ আছে। আর সিজার করতে হলে দুইজন ডাক্তারের দরকার আছে। একজন হচ্ছে অ্যানেস্থেশিয়া দেবেন, আরেকজন হচ্ছে সার্জন। আমাদের যিনি আগে অ্যানেস্থেশিয়া দিতেন, তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে পিআরএল-এ যান।’

হাসপাতালের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে কমবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। তাই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সেবার মান বাড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগী ওই স্বজনরা।

জেআর