হামের পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসপাতালে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | ছবি: সংগৃহীত
0

হামের পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেড় বছরের এক শিশু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছে। আজ (শুক্রবার, ৫ জুন) সকালে রামেক হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

জানা যায়, শিশুটির নাম তাইবা। বাবার নাম জাহিদুল ইসলাম। তাইবা বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল।

তাইবার উন্নত চিকিৎসার আশায় কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহীতে ছুটে আসেন জাহিদুল ইসলাম। হামের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছোট্ট তাইবা মারা যায়। তার বাবা জাহিদুল ইসলামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামে।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে তাইবাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে চিকিৎসকেরা তাকে হাম হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রায় ১২ দিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে সে বাড়ি ফিরে আসে। তখন পরিবারে স্বস্তি ফিরেছিল।

আরও পড়ুন:

কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। গত ২৭ মে আবারও জ্বর ও কাশি শুরু হলে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৯ মে রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালে ভর্তি করার পরদিনই অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। ৩১ মে রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের মতে, চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া প্রথম ডেঙ্গু রোগী ছিল সে।

ডেঙ্গু শনাক্তের পর আইসিইউতে নিবিড় চিকিৎসা চলতে থাকে। কয়েকদিন পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বুধবার তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। এতে পরিবারের মধ্যে নতুন করে আশা জাগে। কিন্তু সেই আশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ওয়ার্ডে নেয়ার পর আবার জ্বরসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। দ্রুত অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার পুনরায় তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর আর তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে হাসপাতালে প্রথম ডেঙ্গু রোগী ছিল তাইবা। বর্তমানে দু-একজন করে রোগী আসছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়লে তাদের জন্য আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালুর প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান।

এসএস