২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতার মসনদে বসার পর, আগেও চেয়েও উদার এবং নারীদের জন্য শরিয়া আইনের ভিত্তিতে পড়াশোনা ও চাকুরির সুযোগ নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়েছিল তালেবান সরকার।
কিন্তু চার বছরেরও বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন নাগরিক অধিকার খর্ব করতে একের পর এক বিতর্কিত নিয়ম জারি করে তালেবান সরকার। ক্ষমতায় বসেই ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ, নারীদের সরকারি ও এনজিও চাকুরি থেকে বিরত রাখতে বেতন হ্রাস ও দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রে আবশ্যক পুরুষ অভিভাবক সঙ্গে রাখাসহ একাধিক বৈষম্যমূলক নিয়ম বসায় শাসকদল। সম্প্রতি চলমান পুরুষতান্ত্রিকতা পালে নতুন হাওয়া লাগাতে বাল্যবিবাহকে বৈধতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের পথে তালেবান। এটি কার্যকর হলে কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে স্বামীর সম্মতি ছাড়া নারীদের তালাকের রাস্তা।
নারীদের নিয়ে তালেবানের নীতিগুলোর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সমালোচনায় সরব জাতিসংঘসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। সম্প্রতি রাজধানী কাবুলসহ আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছে বিবিসি।
আরও পড়ুন:
গণমাধ্যমটি বলছে, অন্যান্য আর পাঁচ-দশ জনের মতো দেশটির নারীদেরও ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা অন্যান্য বড় পেশায় ক্যারিয়ার গঠনের। কিন্তু প্রাথমিকের পর শিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, দেশটিতে ভবিষ্যতে এসব পেশায় কোনো নারী মুখ দেখা যাবে না। এতে করে ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা। কেননা নিয়মের বেড়াজালে নারীরা একদিকে যেমন পুরুষ চিকিৎসকের শরণাপন্না হবে না, অন্যদিকে মহিলা চিকিৎসকের অভাবে নারীরা বঞ্চিত হবে স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদা থেকে। এছাড়াও, বিবিসি বলছে, দমবদ্ধ হওয়া পুরুষতন্ত্রের শিকল থেকে বাঁচতে যেসব নারী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চায়, তা বন্ধ করতেও স্টুডেন্ট ভিসা ও বিভিন্ন স্কিমের ওপর বিধিনিষেধ বসায় তালেবান সরকার।
নারী ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা বাইরে বের হলে ভয় পাই, গণপরিবহনে চড়লে ও অল্প কিছুক্ষণের জন্য মাস্ক খুলতে ভয় পাই। সবসময় ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকি। তালেবানি নীতির বিরোধিতার কারণে, শাসকদল আমাকে অন্ধকার রুমে বন্ধ করে রেখেছিল। তারা আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেছে।
আর যেসব নারী তালেবানের নীতির বিপক্ষে যায়, তাদের ওপর নেমে আসে নারকীয় যন্ত্রণা ।
জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ২০২১ সালের পর আফগানিস্তানে ১০ লাখেরও বেশি নারী প্রাথমিক পরবর্তী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে ২০৩০ নাগাদ এই সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। আর ২৫ হাজারেরও বেশি নারী স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হবে। নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখার আর্থিক খেসারতও দিচ্ছে আফগানিস্তান। ইউনেস্কো বলছে, প্রতি বছর ৮৪ মিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশটি। যা সামনের বছরগুলোতে আরও বাড়বে।




