গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পাওয়ার পর রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রেক্ষিতে গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, ‘সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ওপর গড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী রাজ্যে বুলডোজার শাসনের ভাষা হতে পারে না।’ তিনি মনে করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া যেভাবে হকার, দিনমজুর ও ছোট দোকানদারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তা বাংলার মানুষের আত্মমর্যাদার ওপর বড় আঘাত।
আরও পড়ুন
তৃণমূল সভানেত্রীর এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো, যার কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতার পার্ক সার্কাস, তিলজলা ও হাওড়া স্টেশনের আশপাশে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও গণঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এই উচ্ছেদের সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘যে সরকার আগে উচ্ছেদ করে এবং পরে মানুষের কথা শোনে, তারা আসলে বাংলার মূল চেতনাকেই ভুলে গেছে। রাজনৈতিক অহংকারের চড়া মূল্য আজ বাংলার গরিব মানুষকে চুকাতে হচ্ছে।’
এদিকে, রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্নের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। জনস্বার্থে ও শৃঙ্খলা ফেরাতে এটি একটি ‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান’।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন করে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে ৮০-তে নেমে আসে। ক্ষমতা পরিবর্তনের দুই সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এ উচ্ছেদ অভিযানে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়েছেন।




