সুন্দরবনে ভারতগামী ৫ ট্রলারে ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগ

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ভারতগামী ৫ ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে
সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ভারতগামী ৫ ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে | ছবি: এখন টিভি
0

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এমভি আব্দুল হাকিম-১ নামের একটি কার্গো জাহাজে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে হামলা ও গুলি নিক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আরও চারটি জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল (শনিবার, ৭ জুন) রাতে সুন্দরবনের শিবসা নদী পার হয়ে শিংয়েরনালা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিষয়টি জানে না বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারত-বাংলাদেশ নৌ-প্রেটোকলের অধিনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা, শিবসা নদী দিয়ে ভারতে যায় নৌযানগুলো। জাহাজগুলো হলো— এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আ. হাকিম, এমভি আরিয়ান ছালাম ও এমভি আব্দুল হাকিম-১।

বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রোটকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাহাজগুলো খালি ছিলো। এগুলো ভারতে থেকে ফ্লাইঅ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাচামাল) আনতে যাচ্ছিলো। শনিবার দুপুর ২টার দিকে জাহাজগুলো মোংলা দিয়ে ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। শেখবাড়িয়া থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে থাকার সময় ডাকাতরা হানা দেয়।’

তিনি বলেন, ‘শিপসা নদীর পাড়ি দিয়ে শিংয়ের নালাখালের ভেতর ঢোকামাত্র ডাকাতদল ধাওয়া করে। সামনে থাকা ৪টি জাহাজ এগিয়ে গেলেও সবার পেছনে ছিলো এমভি আব্দুল হাকিম-১। এ জাহাজে উঠে পড়ে ডাকাতরা। তারা জাহাজে উঠেই স্টাফদের মারধর শুরু করে। পরে মাস্টার ব্রিজে গিয়ে অন্তত ১৫ রাউন্ড গুলি করে।’

আরও পড়ুন:

এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহারের ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবীর বরাতে সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। ট্রলারযোগে আসা আনুমানিক ১০-১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাত জাহাজের বাম পাশ থেকে জাহাজের ওপরে ওঠে। তারা নিচে থাকা স্টাফদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে ও মারধর করে। টের পেয়ে তাৎক্ষণিক মাস্টার ব্রিজের সব গেইট আটকে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডাকাতরা মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে গেটের দরজায় ১৫-২০ রাউন্ট শর্গানের গুলি করে। তারা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জাহাজে অবস্থান করে। স্টাফদের মুঠোফোন, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।’

নৌযান শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সমাজ কল্যান সম্পাদক ও বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ভারত রুটে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা চাই। এমন ঝুঁকি নিয়ে আমরা এ পথে আর চলতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাহাজ জোয়ার ভাটা হিসাব করে চলতে হয়। এতে সকাল সন্ধ্যা হতে পারে। নদীতে আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তা না হলে ভারত-বাংলাদেশ এ পথে আমাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে হবে।’

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি, তবে কোনো অভিযোগ পাইনি।’ এছাড়া খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানাও এমন কোনো তথ্য জানে না বলে দাবি করেছে।

এসএইচ