ইরান যুদ্ধের সহজ ইতি টানতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র, ব্যাকফুটে ওয়াশিংটন

ইরানের নেতৃত্ব, ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের নেতৃত্ব, ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

সামরিক শক্তিতে কয়েকগুণ এগিয়ে থাকার পরেও ইরান যুদ্ধের সহজ ইতি টানতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য, ট্রাম্পের অস্থির নেতৃত্ব আর কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে চলমান সংঘাতে একপ্রকার ব্যাকফুটেই ওয়াশিংটন। আর বিকল্প হিসেবে ইরানে স্থল অভিযান শুরু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ২০ মিনিটের ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। ইসরাইলের হয়েও এই একই কথা বলতে শোনা গেছে নেতানিয়াহুকে। কিন্তু ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন কিংবা পরমাণু কর্মসূচি চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার কোনো এজান্ডাতেই সুবিধা কর‌তে পারেনি ওয়াশিংটন-তেল আবিব।

আপাতদৃষ্টিতে বিচার করলে জনসংখ্যা, সামরিক শক্তি ও অর্থনীতির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। এর সঙ্গে আছে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা ও মোসাদের নেটওয়ার্ক। ফলে, ইরানের জন্য এই যুদ্ধ রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু অসম এই লড়াইয়ে ইরানকে কেন কোণঠাসা করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র- সেটাই বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।

রণকৌশল আর চৌকশ নেতৃত্বকে দূরে রাখলে ইরানের তুরুপের তাস এখন হরমুজ প্রণালী। সিএনএন বলছে, শক্তি প্রয়োগ করে এই প্রণালী খোলার ক্ষমতা আছে যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারলে সেটা ইরানের জন্য বড় বিজয় হবে। পাশাপাশি থাকবে মার্কিন সেনা হতাহতের ঝুঁকি। তাই স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ চলাচলকারী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্রমেই আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।

এর বিপরীতে ট্রাম্প যদি খারগ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করেন, তখনও ইরান আত্মসমর্পণ করবে এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বরং এতে করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার তীব্রতা বাড়াতে পারে আইআরজিসি। কারণ দেখা গেছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সমরাস্ত্রের বিপরীতে অল্প কিছু হামলা চালিয়েই গালফ রাষ্ট্রগুলোকে নাজেহাল করে ফেলেছে তেহরান। তাই হরমুজের পর খারগ উত্তপ্ত হলে বৈশ্বিক তেলের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠবে, বাড়বে মন্দার ঝুঁকিও। ফলে এই সিদ্ধান্তটিও ট্রাম্পকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেবে না।

বারবার ইরানকে আলোচনার টেবিলে ডেকে অতর্কিতে হামলার কৌশল ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। ফলে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতাও ওয়াশিংটনকে ভোগাচ্ছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্পের ফাঁদে আর পা দেবে না ইরান।

এছাড়াও চলমান এই সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের থিংট্যাঙ্কারাও খুব বেশি সুবিধা করতে পারছেন না। সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, ইরানকে যে ১৫টি শর্ত দেয়া হয়েছে, কার্যত তা কখনোই মানবে না ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি। পরমাণু প্রকল্পের পর মিসাইল কর্মসূচি ধ্বংসের যে দাবি করেছেন ট্রাম্প তাও উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যুদ্ধের কৌশলগত ট্রাম্পকার্ডও এখন ইরানের হাতে। প্রচণ্ড আক্রমণ সহ্য করে টিকে থাকায় প্রতিদিনই একটু একটু করে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতায় বাধ্য করতে ওয়াশিংটনের মিত্রদের কড়াভাবেই আঘাত করছে বিপ্লবী গার্ড কর্পস। ফলে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার প্রেক্ষাপটও তৈরি হয়েছে তেহরানের দূরদর্শীতার কারণে, যেখানে ব্যাকফুটে ট্রাম্প প্রশাসন।

এসএস