বাগেরহাটে খানজাহান আলী দিঘিতে কুমির ফেরত দেয়ার দাবি খাদেমদের

সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলন | ছবি: সংগৃহীত
0

বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ) মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে নেয়া কুমিরটি পুনরায় দিঘিতে অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন মাজারের খাদেমরা। আজ (রোববার, ৭ মে) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও চিকিৎসার জন্য দিঘি থেকে দুটি কুমির নিয়ে যাওয়া হলেও সেগুলো আর ফেরত দেয়া হয়নি।’

এ সময় বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেয়ারও ঘোষণা দেন প্রধান খাদেম। সংবাদ সম্মেলনে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, খাদেম ফকির পেয়ার আলী, সৈয়দ খালিদ আহম্মেদ, শেখ রবিউল ইসলাম, শেখ আব্দুল জলিল,কাজী শাকিল, শেখ শামিম হাসানসহ মাজারের খাদেম, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

খাদেমদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে উলুঘ খান জাহান আলী দিঘিটি খননের সময় পানির নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের জন্য সেখানে কুমির অবমুক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকেই মাজারের দিঘিতে কুমিরের উপস্থিতি ছিলো। তবে দীর্ঘদিন প্রজনন না হওয়া, বিভিন্ন দুর্ঘটনা এবং মানবসৃষ্ট কারণে একে একে কুমিরগুলো মারা যেতে থাকে। সর্বশেষ স্থানীয় বংশধারার কুমিরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

আরও পড়ুন:

কুমিরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। তবে সেগুলোরও কয়েকটি পরে মারা যায়। সর্বশেষ দুটি কুমিরের মধ্যে একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যাওয়ার পর দিঘিতে মাত্র একটি কুমির অবশিষ্ট ছিলো।

সাম্প্রতিক সময়ে ওই কুমিরটি মানুষ ও প্রাণীর ওপর আক্রমণ চালায়। চলতি বছরের এপ্রিলে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সবশেষ, গত ১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারী ঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তার (৭) নামে এক শিশুকে কুমিরটি পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ২ জুন ভোরে দিঘি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ৩ জুন কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে খানজাহান আলীর (রহ) মাজারের দিঘিতে কুমিরের সাড়ে ৬০০ বছরের ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটে।

এফএস