সিআইএ–ইসরাইল মিলিয়ে খামেনিকে হত্যার ‘গোয়েন্দা অভিযান’

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও বিশদ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, মাটির নিচে থাকা সুরক্ষিত বাংকারে বসেও খামেনি রক্ষা পেতে পারেননি। হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল অত্যন্ত শক্তিশালী বাংকার-বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র, যা মাটির গভীরে থাকা কক্ষও ধ্বংস করতে সক্ষম। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

সূত্র জানিয়েছে, সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাফেরা এবং অভ্যাস নজরে রেখেছিল। বিশেষ করে গতকাল (শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে এক গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার তথ্য পেয়ে, হামলার সময় বদলে ফেলা হয়। এ তথ্য ইসরাইলকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সহায়তা করে।

হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল খামেনি নয়; ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিল প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা টার্গেট করা হয়েছিল।

অভিযান শুরু হয় ইসরাইল সময় ভোর ৬টায়। কম সংখ্যক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হলেও, সেগুলোতে ছিল দীর্ঘপাল্লার এবং অত্যন্ত নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। বিস্ফোরণে কমপ্লেক্সের একটি ভবন ধ্বংস হয়, খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও উপদেষ্টারাও নিহত হন।

আরও পড়ুন:

ইসরাইলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল, তবু আমরা কৌশলগত চমক দিতে পেরেছি।

আজ (রোববার, ১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, হামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।

সূত্র মতে, এ হত্যাকাণ্ড দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ফল। সিআইএ–ইসরাইলের এই যৌথ গোয়েন্দা অভিযান ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের চলাফেরা ও যোগাযোগে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এ হামলা প্রমাণ করে, যুদ্ধের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না। হামলার পর আইআরজিসি প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এসএস