বাড়ছে প্রবাসী আয় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা; বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ রেমিটেন্স যোদ্ধাদের

প্রবাসীরা কাজ করছেন
প্রবাসীরা কাজ করছেন | ছবি : এখন টিভি
0

গেল কয়েক বছর ক্রমাগত বাড়ছে প্রবাসী আয়। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের কল্যাণ ফি-এর টাকায় চলছে মন্ত্রণালয়। অথচ তাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকে তলানিতে। এই খাতের সরকারি সেবা রাজস্ব বাজেট থেকে করার পাশাপাশি বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ তাদের। অন্যদিকে বরাদ্দ বাড়াতে প্রবাসী কার্ড, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য সেবা ও পুনর্বাসনসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

পনের বছরে তিনগুণ বেড়েছে প্রবাসী আয়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের একমাস বাকি থাকতে সেই আয় ছাড়িয়ে গেছে ৩১ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা থাকলেও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য তলানিতে থাকে বাজেটে বরাদ্দ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ১৮ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব ছিল। পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে সেটি ৭০৭ কোটি টাকা নির্ধারণ হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হলেও পরে সংশোধিত বাজেট দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। একইভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৫৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবের পর সংশোধিত বাজেট দাঁড়ায় ৯৩০ কোটি টাকা।

কেবল দক্ষ শ্রমিক তৈরি নয়, নিশ্চিন্ত প্রবাস জীবন নিশ্চিত করতেও বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন। প্রবাসীরাও বলছেন, দেশের বাইরে মৃত্যুবরণ করা সকল প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে বহন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বীমা, সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিতে জেলা শহরগুলোতে ছাত্রাবাস গড়ে তুলতে পারলে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মান আরও বাড়বে।

রেমিটেন্স যোদ্ধারা জানান, একটা ডেড বডি এখান থেকে বাংলাদেশে ঘরে পৌঁছানোর জন্য যা যা দরকার তা তা ব্যবস্থা করা। প্রবাসী ভাইদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা বীমা, এটি আমরা অনেক বছর ধরেই বলা হচ্ছে, কিন্তু এখনো বাস্তবায়িত হতে দেখছেন না তারা।

তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বড় বরাদ্দ চায় এই মন্ত্রণালয়। যা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রবাসী কার্ড, স্বাস্থ্য সেবা, বিদেশে মিশন সংখ্যা বৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সেবার মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে। বিদেশ ফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন, ঋণ সহায়তা ও বিমানবন্দরে প্রবাসী ডেস্কের পরিধি বাড়াতেও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘ট্রেনিং সেন্টার প্রশিক্ষণ, সেটা এনশিওর করা। প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য এখান থেকে পাঠানোর পাশাপাশি প্রত্যাগতদের পুনর্বাসন এবং তাদের মেডিকেল ফেসিলিটিজসহ আদার্স সুবিধা এনশিওর করা। বিষয়গুলোর জন্য যে সাপোর্টটা প্রয়োজন, আমরা তার একটা চাহিদা দিয়েছি। বাকিটা সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, দেশের পরিস্থিতি সব বিবেচনা করেই তো আসলে বাজেট অ্যালোকেশন হয়।’

অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটে প্রবাসীরা বরাবরই অবহেলিত। কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়নে তেমন কোন বরাদ্দ থাকে না।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারের নানান ধরনের কল্যাণমূলক পদক্ষেপ আমাদের প্রবাসীদের জন্য নেয়া উচিত এবং এই মন্ত্রণালয়ের বাজেটটা আসলে বাড়ানো। সেখানে কল্যাণমূলক বাজেট, প্রশিক্ষণের জন্য বাজেট, দক্ষ তৈরি মানে কর্মী তৈরি করার জন্য বাজেট, বিদেশে বিপদে পড়লে আমাদের কর্মীরা যেন পায়, এমনকি ফেরত আসার পর তারা যেন এয়ারপোর্টে সাপোর্ট পায়, তারা যেন ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে।’

অভিবাসন খাতের সরকারি সেবা রাজস্ব বাজেট থেকে করার পরামর্শ এই অভিবাসন বিশেষজ্ঞের। প্রশিক্ষণ-প্রশিক্ষক খাতে বড় বরাদ্দের তাগিদ দিলেন তিনি।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, ‘একটা মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, তিনি তার ফি যেটা দিচ্ছেন, সেইটা তার কল্যাণে ব্যয় হবে। কিন্তু সরকারি যে সেবাগুলো, সেগুলো আমাদের রাজস্ব বাজেট থেকে আসবে। যন্ত্রপাতির আগে দালানকোঠার আগে যেটা দরকার, এখানে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় করা দরকার এবং প্রয়োজন হলে সেখানে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক নিয়ে আসা।’

বিদেশে থাকা মিশনের জন্য বাজেট বাড়ানো গেলে লোকবল সংকট কাটানো সম্ভব বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

এফএস