যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার তোড়জোড়ের মধ্যেই, ইরান ও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সমর্থনে প্রতিবেশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সোমবার বিশাল জনসমাবেশে যোগ দেয় লাখো মানুষ।
তেহরানের সহযোগী ও লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর নেতা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বার্তায় বলেন, ইরানে সামরিক অভিযান হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না তার সংগঠনও। নিরপেক্ষতা নয়, বরং সঠিক সময়ে পাল্টা আঘাত হেনেই জবাব দেয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
জনসমাবেশে অংশ নেয়াদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এ সমাবেশে আমাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে ইরানের পাশে আমাদের অবস্থান সুদৃঢ়। ইরানকে সমর্থন করে যাব, ঠিক যেমন তারা আমাদের সমর্থন দেয়। কখনোই তাদের একা ছেড়ে দেবো না।’
অন্য একজন বলেন, ‘ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি লেবাননেও প্রভাব ফেলবে। ইরানে কিছু ঘটলে আমাদের অবশ্যই দেশটির পাশে দাঁড়াতে হবে এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতে হবে।’
আরও পড়ুন:
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে বিশাল মার্কিন রণতরী বহরের প্রবেশকে ঘিরে, তীব্র হয়েছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা। কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বহরটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান করছে বলে সোমবার নিশ্চিত করে মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড। পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত এফ ফিফটিন ও এফ থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান, রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। টানটান উত্তেজনার মধ্যেই, যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিয়ে শত্রুপক্ষকে অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে ইরান, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানেরও।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো বোঝে যে এ অঞ্চলে একটি অংশের নিরাপত্তাহীনতায় শুধু ইরান বিপদে পড়ে না। বরং এ অস্থিরতা সংক্রামক। ইরান নিজস্ব শক্তিতে আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিহাস থেকে নেয়া শিক্ষা মনে রাখে। আমরা যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও জোরালো জবাব দেবো।’
ইরান ও মিত্রদের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে এবং সমঝোতায় যেতে চায় ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম আক্সিয়াসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ভেনেজুয়েলায় পাঠানো নৌবহরের চেয়েও বড় সামরিক নৌবহর ঠিক ইরানের পাশেই অবস্থান করছে। যদিও হামলার সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত করেননি তিনি, বলছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র। ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় মার্কিন সেনাবাহিনী।





