গতকাল (শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্য থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারপরই ঐক্যের নেতৃত্ব দেয়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঐক্য ছেড়ে যাওয়ার আদর্শিক দ্বন্দ্বের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেন জামায়াতের এ নেতা। জানান, ১১ দলের সমঝোতায় তার দল শুরু থেকেই আন্তরিক ছিলো।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা বিদ্যমান যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো চলছে, সেগুলোকে কার্যকর করার জন্য আমরা একমত হয়েছি। এখানে উনারা যেটা বলছেন এসব কোনো দাবি ছিল না। দাবিগুলো তো খুবই স্পষ্ট, পাঁচ দফা দাবি তারা বলেছেন, আমরা বলেছি। এটি একটি নির্বাচনি জোট আমরা তখন থেকে বলে আসছি। নির্বাচনি ঐক্য প্রক্রিয়া, যেটা আমরা পরে আসন সমঝোতায় গিয়েছি। আমাদের ডিক্লেয়ার্ড নীতি এটা যে, আমরা সবাইকে নিয়েই চলতে চাই। যদি আসেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ, আর যদি না আসেন তাহলে আমাদের জোট সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের যেটা এখন ১১ দলীয় ঐক্য যেটা নাম দিয়েছি তখন তারা গিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেবেন।’
বাকি ৪৭ আসন নিয়ে সমঝোতায় থাকা দলগুলোর লিঁয়াজো কমিটি সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘২৫৩ আসনের ঘোষণা হয়েছে, বাকি ৪৭টি আসন আমাদের হাতে আছে। এখানে কিছু আছে ইসলামী আন্দোলনের জন্য, অন্যান্য দলের জন্য কিছু আছে। কিছু উন্মুক্ত চিন্তা করে রাখা হয়েছিল। এখন সামনের বাস্তবতাকে সামনে রেখে শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন, আসনগুলো আমরা কীভাবে বণ্টন করবো।’
এদিকে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যে জোট থেকে বের হয়ে যাবে তেমনটা ভাবেনি তার দল। তবে ইসলামী আন্দোলন না আসলেও ১০ দলের ওপর জনগণ আস্থা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি ইসলামী আন্দোলনসহ যেকোনো দল যারা আমাদের এ প্রিন্সিপালগুলোর সঙ্গে একমত হতে পারবেন তারা এ ঐক্যে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান থাকবে এবং প্রত্যাশা থাকবে। ইসলামী আন্দোলন এ জোটে নেই, এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা প্রত্যাশা করিনি এমন কিছু হবে।’
ইসলামী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে টানার এ চেষ্টায় সাড়া দিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন ফিরে আসবে বলে আশা করেন আসিফ মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত যদি তা না হয় তাহলে ঐক্যে এনসিপির আসন বাড়বে বলে প্রত্যাশার দাবি করেন তিনি।





