এক্স আইডি হ্যাকের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমার এক্স আইডি হ্যাক করে অত্যন্ত নোংরা মেসেজ সেখান থেকে দেয়া হয়েছে।’
তবে তারেক রহমান তার এক নির্বাচনি প্রচারণা সমাবেশের মঞ্চে দেয়া বক্তব্যে এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হতে পারে না।
ভোটের মাঠে দুই প্রতিপক্ষ দলের প্রধানের কথার লড়াই, ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর দিন থেকে এর মাত্রা বাড়ে কয়েকগুণ।
এই যেমন বিএনপি ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণার পরই জামায়াত আমিরের ঘোষণা ছিল কারো হাতে ফ্যামিলি কার্ড নয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বাসী তারা। প্রচারণার দ্বিতীয় দিনই পঞ্চগড়ে জামায়াত আমির তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বসন্তের কোকিলের সাথে তুলনা করলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের আলোচনায় ছিল জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে ‘গুপ্ত’ পরিভাষার ব্যবহার।
আরও পড়ুন:
কথার লড়াইয়ের এই আবহে উঠে আসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল দুটির অবস্থানসহ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে কন্ঠস্বরের মাত্রা।
নির্বাচনে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে দলদুটোর ঘোষণাও ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও সবশেষ পহেলা ফেব্রুয়ারি জামায়াত আমীরের টুইটার এক্স একাউন্টের পোস্ট ঘিরে রাজনীতির মাঠে এখন ভিন্ন আবহ।
একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শক্তিমত্তার প্রদর্শন ঘিরে সহিংসতার ঘটনাও কম নয়। যদিও দুই দলের শীর্ষ প্রতিনিধিদের ভাষ্য সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার আকৃষ্ট করতে চলছে জনমুখী কর্মসূচির পরিকল্পনা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় স্বাভাবিকভাবেই ভোটারদের কাছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজ নিজ কৌশলে ছুটে যাবে। আমরা এতটুকুই নিশ্চিত করতে চাই যে, নির্বাচনটা যেন স্বচ্ছ হয়, অবাধ হয়।’
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা সবসময় পজিটিভ। আমরা কারও কোনো কথায় উত্তেজিত হই না। বরং আমরা আমাদের নীতি-পলিসি, পদ্ধতি, আমাদের চিন্তা—এগুলো আমরা মানুষের সঙ্গে শেয়ার করি যে, কীভাবে আমরা এ দেশটাকে আরও সুন্দর করতে পারি, ভালো করতে পারি।’
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে যতটা সম্ভব সহনশীল হতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। একইসঙ্গে কাঁদা ছোড়াছুড়ির ফলে ভোটের মাঠে এবার অন্য যেকোনোবারের চেয়ে সহিংসতা বাড়ার শঙ্কা তাদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগলো ৫ আগস্টের পরে যে ধরনের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া উচিত ছিল, তারা দিচ্ছে না। তারা মানুষের কথা ভাবছে না। এই জিনিসটা যদি তারা বুঝতেন, তাহলে তো তারা সেখান থেকে সরে আসতো। কিন্তু তারা যেটা দেখছে যে, তারা আমাকে ঢিল মারলে, আমাকে পাটকেলটা মারতে হবে।’
রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘আপনি যখন আমিত্ব ঘোষণা করেন, আপনার আচরণে যখন প্রকাশিত হয় যে, আসলেই আপনি অন্যকে গ্রহণ করা বা সহ্য করার ক্ষমতা রাখেন না, তাহলে আপনি কীসের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কথা বলেন?’
এ বিশ্লেষক মনে করেন, রাজনৈতিক এসব ঝগড়ায় আহত ভোটাররা। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলগুলোকে নিতে হবে সৃজনশীল সব কর্মসূচি।
আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক যে, আমরা একটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণ করতে পারিনি।’





