সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, কিছু দেশ এরইমধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ‘মধ্যস্থতার’ চেষ্টা শুরু করেছে। তবে যেকোনো আলোচনায় তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, যারা ইরানের জনগণকে অবমূল্যায়ন করে এই সংঘাত শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির প্রতি ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তেহরান কোনো আপস করবে না।’
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই কাতার, তুরস্ক, মিশর ও ওমান বিভিন্ন সময়ে ‘মধ্যস্থতার’ প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দুই দিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এটি কূটনীতির সময় নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষার সময়।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ছিল। এর আগেও পারমাণবিক আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন:
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দ্রুত আলোচনায় বসার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার শক্তি আরও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরে সংস্কারপন্থি রাজনৈতিক জোট ‘রিফর্ম ফ্রন্ট’ দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, নতুন নেতৃত্ব এলে বিশ্বকে শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা দেয়া সম্ভব হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনও কমবে।
তারা আরও বলেছে, আঞ্চলিক এলাকায় অ-সামরিক মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালালে ইরানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কমে যেতে পারে।
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ। বর্তমানে দেশটির সরকার একটি অস্থায়ী তিন সদস্যের পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলোতে মূলত সামরিক সাফল্য ও বেসামরিক হতাহতের খবর প্রচার করা হচ্ছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, সে বিষয়ে খুব কম তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।





