নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে ‘ছুরিকাঘাতে হত্যার পর’ স্বামীর আত্মহত্যা!

আত্রাই থানা, নওগাঁ
আত্রাই থানা, নওগাঁ | ছবি: এখন টিভি
0

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, স্ত্রী ও আড়াই বছরের মেয়ে সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামী জয় সরকার (২৫) আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ) রাত ১টার দিকে উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের বলরামচক গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— বলরামচক গ্রামের চৌধুরী পাড়ার গৌতম সকারের ছেলে জয় সরকার (২৫), তার স্ত্রী বৃষ্টি রানী (২০) ও আড়াই বছরের মেয়ে জিনি সরকার।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌতম সকারের দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলে জয় সরকার গত প্রায় ৮ বছর আগে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলার মেয়ে বৃষ্টি রানীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে পারিবারিকভাবে ৫ বছর আগে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। কিন্তু জয় মাদকাসক্ত হওয়ায় তাদের সংসারে ঝগড়া ও কলহ লেগেই থাকতো। মাদকের প্রভাবে জয় বেপরোয়া হওয়ায় স্ত্রী বৃষ্টি বেশ কয়েকবার সংসার ছেড়ে চলে যায় এবং ফিরেও আসেন। মাদকের অর্থের যোগান দিতে জয় প্রায়ই তার বাবার কাছে টাকা দাবি করতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো এবং এসব নিয়ে সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হতো।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতেও এরকমই কিছু বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয় এ পরিবারে। এরপর রাতের খাবার খেয়ে তারা যে যার মতো ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়ের ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে যান এবং দেখতে পান, জয় ও তার স্ত্রী-সন্তান রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এসময় স্ত্রী ও সন্তানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও জয়ের গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

এ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে স্ত্রী বৃষ্টি রানী মারা যান। গুরুত্বর অবস্থায় জয় সরকার ও মেয়ে জিনি সরকারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তারাও সেখানে মারা যান।

আরও পড়ুন:

ঘটনাটি জানতে ও তাদের এক নজর দেখতে স্থানীয়রাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সকাল থেকে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।

প্রতিবেশীরা জানান, জয় মাকদাসক্ত ছিল। নেশার জন্য টাকা চাওয়া নিয়ে প্রায় ঝগড়া হতো। টাকা না দিলে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো। একাধিক মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন আছে তার। তারপরও আরও চাহিদা ছিল। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়ের বাড়িতে হঠাৎ চিৎকার শুনতে পেয়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে তাদের ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পান। জয়ের গলায় রক্তাক্ত কাপড় পেচানো ছিল, তার স্ত্রী ও সন্তানের বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাতের কারণে প্রচুর রক্ত ঝরছিল।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শেফালি খাতুন বলেন, ‘রাতেই ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু আসতে পারিনি। সকাল ৮টার দিকে নিহতের বাড়িতে আসি। পরিবারটি ভালো ছিল। কিন্তু মাদকাসক্ত ছেলের কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। মাদকের কারণে তিনটি জীবন শেষ হয়ে গেলো।’

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রী বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জয় সরকার মাদকাসক্ত ছিল। জয় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশিদের সঙ্গে বেপরোয়া আচরণ করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেন জয়। বিষয়টি তদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এসএইচ