ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম ও শর্ত: যেভাবে ভাগ করলে শুদ্ধ হবে

কোরবানি না দিলে কি গুনাহ হয়
কোরবানি না দিলে কি গুনাহ হয় | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র ঈদুল আজহায় (Eid-ul-Adha) সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। অনেকেই আর্থিক সামর্থ্যের অভাব কিংবা অন্য নানা কারণে একা কোরবানি না দিয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বা শরিকে কোরবানি (Joint Qurbani or Share Qurbani) দিয়ে থাকেন। তবে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ভাগে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও শর্ত (Rules and Conditions) কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। এর ব্যতিক্রম হলে কারও কোরবানিই (Rules of Joint Qurbani) শুদ্ধ হবে না।

১. পশুভেদে সর্বোচ্চ শরিক বা ভাগের সংখ্যা (Maximum Shares per Animal)

ইসলামি শরিয়তের বিধান ও নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থ অনুযায়ী, সব পশুতে ভাগে কোরবানি দেওয়া জায়েজ নেই:

ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা: এসব পশু দিয়ে কেবল একজনই কোরবানি দিতে পারবেন। একাধিক ব্যক্তি মিলে ছাগল বা ভেড়ায় শরিক হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।

উট, গরু ও মহিষ: এই বড় পশুগুলোতে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি বা সাতটি ভাগে (Maximum Seven Shares) শরিক হয়ে কোরবানি করা জায়েজ। তবে সাতের কম যেকোনো সংখ্যা যেমন; দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয় ভাগে কোরবানি করাও সম্পূর্ণ বৈধ (হিন্দিয়া: ৫/৩০৪)। সাতের বেশি শরিক হলে কারও কোরবানিই কবুল হবে না।

আরও পড়ুন:

২. অংশের সর্বনিম্ন পরিমাণ ও সমতা (Minimum Share Value)

শরিকে কোরবানি করার প্রধান শর্ত হলো, কোনো অংশীদারের অংশই যেন এক-সপ্তমাংশ বা সাত ভাগের এক ভাগের (1/7th Share) কম না হয়। যদি কারও অংশ এর চেয়ে কম হয়, তবে ওই পশুতে শরিক হওয়া বাকি সব মানুষের কোরবানি বাতিল হয়ে যাবে (বাদায়েউস সানায়ে: ৫/৭১)।

৩. পশু কেনার পর শরিক নেওয়ার বিধান (Rules for Adding Partners After Purchase)

পশু ক্রয়ের পর নতুন কাউকে শরিক করার ক্ষেত্রে ধনী ও গরিব ভেদে ভিন্ন নিয়ম রয়েছে:

ধনী ব্যক্তির ক্ষেত্রে: কোনো ধনী ব্যক্তি একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে গরু বা উট কেনার পর চাইলে অন্যকে শরিক করতে পারবেন। তবে শরিক না করে একা কোরবানি দেওয়াই উত্তম। শরিক করলে, শরিকের কাছ থেকে পাওয়া টাকা সদকা (Charity or Sadakah) করে দেওয়া উত্তম।

গরিব ব্যক্তির ক্ষেত্রে: যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, এমন গরিব ব্যক্তি যদি একা কোরবানির নিয়তে পশু কেনেন, তবে কেনার পর অন্য কাউকে শরিক করতে পারবেন না। কারণ পশুটি কেনার মাধ্যমেই তিনি তা আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে ফেলেছেন। যদি তিনি কাউকে শরিক করেন, তবে সেই টাকা সদকা করা আবশ্যক (হেদায়া: ৪/৪৪৩)। গরিব ব্যক্তি ভাগে দিতে চাইলে পশু কেনার সময়ই নিয়ত করে নিতে হবে।

আরও পড়ুন:

৪. ওজন করে গোশত বণ্টন ও বিতরণ নীতি (Meat Distribution Process)

ভাগে কোরবানি দেওয়ার পর গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে আনুমানিক ভাগ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ বা গুনাহের কাজ।

ওজন করা বাধ্যতামূলক: শরিকে কোরবানি করলে অবশ্যই পাল্লা-পাথর বা স্কেলে সঠিক পরিমাপে ওজন করে গোশত বণ্টন (Meat Distribution by Weight) করতে হবে।

গোশত বিতরণের নিয়ম: কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করা উত্তম। এক তৃতীয়াংশ (1/3rd) গরিব-মিসকিনকে, এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীকে এবং বাকি এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য রাখা। তবে কোনো পরিবার চাইলে সম্পূর্ণ গোশত নিজেরাও রেখে দিতে পারে, এতে কোরবানির কোনো ক্ষতি হবে না।

একনজরে ভাগে বা শরিকে কোরবানির মূল শর্তসমূহ (Quick Qurbani Rules)

কোরবানির বিষয় (Qurbani Aspects) শরিয়তের বিধান ও শর্ত (Sharia Rules & Conditions) দলিল/উৎস (Reference)
গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ শরিক সর্বোচ্চ ৭ জন বা ৭ ভাগে শরিক হওয়া জায়েজ। সহীহ মুসলিম: ১৩১৮
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এসব পশুতে কোনো ভাগ চলবে না, কেবল ১ জন দিতে পারবেন। কাযিখান ৩/৩৪৯
সর্বনিম্ন অংশের পরিমাণ কোনো শরিকের অংশই মোট পশুর ১/৭ ভাগের কম হতে পারবে না। বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭১
গোশত বণ্টন পদ্ধতি অনুমান করে ভাগ করা নাজায়েজ; দাঁড়িপাল্লায় নিখুঁত ওজন করতে হবে। আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭
গোশত বিতরণের উত্তম নিয়ম ৩ ভাগ করা উত্তম (১ ভাগ নিজের, ১ ভাগ আত্মীয়ের, ১ ভাগ গরিবের)। আলমগীরী ৫/৩০০

এসআর