কোরবানির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (Brief History of Qurbani)
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, প্রত্যেক উম্মতের জন্যই কোরবানির বিধান (Rules of Qurbani) রাখা হয়েছিল। মানব ইতিহাসের প্রথম কোরবানি দাতা হলেন হযরত আদম (আ.)-এর দুই সন্তান হাবিল ও কাবিল। হাবিল তার পশুপালের সেরা দুম্বাটি কোরবানি করেন এবং কাবিল তার ফসলের কিছু অংশ উপস্থিত করেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে হাবিলের কোরবানি কবুল হয়, যা পরবর্তী সকল উম্মতের জন্য এক ঐতিহাসিক শিক্ষা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন:
ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত ও মুসলিম উম্মাহ (Sunnah of Ibrahim A.S.)
বর্তমান মুসলিম উম্মাহ যে কোরবানি পালন করে, তা মূলত জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতি বহন করে। পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর আদেশে কোরবানি করার সেই অকল্পনীয় ধৈর্য ও আত্মসমর্পণের ঘটনার মাধ্যমেই আজকের কোরবানির ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোরবানি হলো তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত (Sunnah)।’
কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব? (On Whom is Qurbani Wajib?)
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের (Nisab of Wealth) মালিক থাকেন, তবে তার জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। নিসাব হলো, সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ (7.5 Tola Gold) অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা (52.5 Tola Silver) কিংবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্য।
কোরআনে কোরবানির বিভিন্ন নাম (Different Names of Qurbani in Quran)
১. নাহর (Nahr): সূরা কাউসারে আল্লাহ বলেছেন, 'আপনার প্রতিপালকের জন্য নামাজ ও কোরবানি (Sacrifice) আদায় করুন।' একারণেই কোরবানির দিনকে 'ইয়াওমুন নাহর' বলা হয়।
২. নুসুক (Nusuk): সূরা আনআমে ইরশাদ হয়েছে, 'নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য।'
৩. মানসাক (Mansak): সূরা হজে মহান আল্লাহ জানিয়েছেন, 'আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির (Ritual Sacrifice) বিধান রেখেছি।'
তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম (A Means of Achieving Taqwa)
কোরবানি মানে কেবল লোক দেখানো পশু জবাই নয়। মহান আল্লাহ বলেন, কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস তার কাছে পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় বান্দার তাকওয়া (Taqwa/Piety)। নিজের ভেতরের পশুত্ব এবং আমিত্বকে বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই কোরবানির মূল শিক্ষা।
আরও পড়ুন:
বিষয় (Topic)
বিবরণ (Description)
কোরবানির সময়কাল
১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত
নিসাব (স্বর্ণ)
৭.৫ ভরি (সাড়ে সাত ভরি)
নিসাব (রুপা)
৫২.৫ ভরি (সাড়ে বায়ান্ন ভরি)
অন্যান্য
সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্য
মূল লক্ষ্য
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন
আরও পড়ুন:




