‘সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে; হামলার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন’

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব | ছবি: এখন টিভি
0

শাহবাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। ভুক্তভোগীসহ বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আর ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম জানালেন, ক্যাম্পাসে ফের ভয়ের রাজত্ব ফিরিয়ে আনতে দেয়া হবে না। তবে ছাত্রদল সভাপতির দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আবারও উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে এখনও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

তবে যে স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত, সেটি ভুয়া দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এ ঘটনার পেছনে প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও দাবি তার।

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘এই জিনিসটা খুবই আপত্তিকর যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুলাই আপরাইজিংয়ের পরবর্তী এই সময়ে এমন একটা জিনিসের দ্বারা আক্রান্ত হবে যার সঙ্গে তার ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই।’

আরও পড়ুন:

শাহবাগের ঘটনায় ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতারাও উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ‘মঞ্চ ২৪’ এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকি। মধুর ক্যান্টিনে আরেক সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অভিযোগ করেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করতে যাওয়া একজনকেই উল্টো দোষী বানানো হয়েছে।

ফাহিম ফারুকি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ করে ভিসি, আপনার প্রতি আমাদের আস্থা শ্রদ্ধা রাখতে চাই। আপনার কোনো ধরনের কোনো ভূমিকা দেখতে পাই নাই আমরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এ ধরণের উত্তেজনা তৈরি হবে আর আপনি চুপ করে বসে থাকবেন এটা হতে পারে না।’

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে হল দখল বা ভয়ের রাজত্ব ফিরিয়ে আনতে দেয়া হবে না।

আরও পড়ুন:

ডাকসু সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, ‘যারা এই নৃশংস কায়দায় ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা যারা হামলা করেছে, এই হামলার পরে আমরা তাদেরকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, হামলার সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদেরকে সবাইকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদলের ওই সময়ে সভাপতিসহ যারা ছিল ওনার সাথে কথা বলেছি, কথা বলার পরে উনি বলেছেন তাদের সবার বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

তবে সব ধরনের অভিযোগ নাকচ করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির। তিনি জানান, প্রতিপক্ষের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ক্যাম্পাসগুলোতে মূল সমস্যা হচ্ছে যে একটি গুপ্ত সংগঠন যে গুপ্ত রাজনীতি চালু রেখেছে যেখানে আমরা অধিকাংশ ক্যাম্পাসে জানতে পারলাম কোনো জায়গায় দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি, কোনো জায়গায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি কিন্তু দেড় বছর যাবৎ এখানে মব হয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রপাগন্ডা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদল সভাপতি।

এসএস