দেশে এখন

বৃহত্তর সিলেটজুড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি

ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়েছে সুনামগঞ্জের ১৩ উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি প্রায় ৭ লাখ মানুষ। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও বাহন সংকটে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না অনেকেই। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের। এরই মধ্যে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসনসহ সেনাবাহিনী।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বৃহত্তর সিলেটজুড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। পানি থৈ থৈ অবস্থায় তলিয়েছে বসতভিটা ও রাস্তাঘাট। আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে দুর্গত এলাকাবাসী। সড়কে স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ভেঙে একমাত্র বাহন এখন নৌকা। । খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্গত এলাকার মানুষ। সব থাকতেও অসহায় সবাই।

এরই মধ্যে ঢলের জলে ডুবে গেছে সিলেটের নিম্নাঞ্চল। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। সিটি করপোরেশনের বেশকিছু এলাকাসহ পানিবন্দি ১৩টি উপজেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষ।

বন্যার কবলে পড়ে অসহায় শহর-নগর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

বৃহত্তর সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সুনামগঞ্জ। দোয়ারা বাজার, ছাতক, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগরসহ ৭ উপজেলার নিম্নাঞ্চল পুরোপুরি বন্যা কবলিত। পানি ছুঁয়েছে ঘরের চাল। সড়কে নৌকা ভাসিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছে সবশ্রেণির মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর, মাছের পুকুরের, গোলার ধানসহ ফসলি জমি। সব মিলিয়ে সাড়ে ৬ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র।

এ অবস্থায় বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটে আগামী ৩ দিন ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস দেয়া হয়েছে। পাহাড় ধসের আশঙ্কায় সিলেট ও চট্টগ্রামে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি কিছুটা অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলেও কতিপয় পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্ট হতে পারে।’

সিলেটের মতো মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতিও ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। ঢলের পানিতে বেড়েছে জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ি নদীর পানি। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার প্রায় সবক'টি উপজেলায় ২ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন। অনেকেই উঠেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৫৭১ জন। খোলা হয়েছে ৫৬টি মেডিকেল টিম। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ সুরমা বড়ইকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ জুন) ওই বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিলেট সিটি করপোরেশনের অনুরোধে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এর নির্দেশনায় 'ইন এইড টু দি সিভিল পাওয়ার' এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, সিলেট শহরের পার্শ্ববর্তী বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এ সকল এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সেনাসদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে বলে আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আসু

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর