ধীরগতির ইন্টারনেটে বাড়ছে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি, দুর্বল হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক

ধীরগতির ইন্টারনেট
ধীরগতির ইন্টারনেট | ছবি: এখন টিভি
0

দেশে দিনের পর দিন বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহার। তবে নানা সময়ে ধীরগতির ভোগান্তি। অনলাইন ক্লাস, ফ্রিল্যান্সিং, অফিসের কাজ থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম—সবখানেই ধীরগতির অভিযোগ ব্যবহারকারীদের। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে ব্যাটারি শিল্পে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বিদ্যুৎ না থাকলে বন্ধ হয়ে যায় ওয়াইফাই রাউটার, দুর্বল হয়ে পড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক। ফলে ধীরগতির ইন্টারনেট নিয়ে বিপাকে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা।

ইন্টারনেট নির্ভর ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও অফিসকর্মীরা বলছেন—নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে কাজের ক্ষতি হচ্ছে।

ব্যবহারদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ওয়াইফাই ইউজ করি, তো যখন বিদ্যুৎটা চলে যায়, তখন হচ্ছে কি আমাদের কাজটা থেমে থাকে। সো ইন দিস ওয়ে আমরা তো হচ্ছে বর্তমানে আপনার পড়াশোনাটা অনেকটা হচ্ছে ইন্টারনেটনির্ভর। আমরা ইন্টারনেটে অনেক কাজ করি, এক্সাম দেই, পড়াশোনা করি, বিভিন্ন জব প্রস্তুতি নেই।’

অন্য একজন বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে কোনো একটা কাজে আছি ইন্টারনেট কেন্দ্রিক, ইন্টারনেট সংক্রান্ত কাজে আছি, কিন্তু হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে দেখা যাচ্ছে ওই কাজ আবার পুনরায় করতে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:

লোডশেডিং শুধু আলো নিভিয়ে দিচ্ছে না, ধীর করে দিচ্ছে ডিজিটাল জীবনও। ব্যবহারকারীরা বলছেন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যতীত স্থিতিশীল ইন্টারনেট নিশ্চিত করা কঠিন।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইন্টারনেটের গতি সচল রাখতে চার্জ ব্যাকআপ হিসেবে ব্যাটারি শিল্পে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আলমাস কবির বলেন, ‘সরকারকে কয়েকটা জিনিস একটু চিন্তা মানে করতে হবে, সেটা হচ্ছে যে, যদিও আস্তে আস্তে ব্যাটারি ব্যাকআপ চলে আসছে, এই ব্যাটারিগুলোর উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে হবে। যেমন মনে করেন, এই যে ইউপিএস যেটা বললাম, ইউপিএস যদি থাকে আমার, সেই ইউপিএস-এর ব্যাটারি যদি আমি একটা ৫-৬ ঘণ্টা ব্যাকআপ দিতে পারি, সেরকম ব্যাটারি, এই যে লিথিয়াম ব্যাটারিগুলো। এই লিথিয়াম ব্যাটারিগুলো যদি বাংলাদেশে উৎপাদন করা যেত, তাহলে কিন্তু অনেক কম দামে আমরা ইউপিএস জোগাড় করতে পারতাম, কিনতে পারতাম।’

ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবতায় এখন ইন্টারনেট শুধু যোগাযোগ নয়, শিক্ষা ও জীবিকারও অংশ। তাই ব্যবহারকারীদের দাবি, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

এসএস