প্রথমে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে ফটিকছড়িতে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি জামাল হোসেন খুনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে সেই মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন বিচারক।
পুলিশ সুপার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে ঘোষণা করলেও আদালতে রিমান্ডের কোনো আবেদন করা হয়নি। আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘ভারতে পালানোর আগেই যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকও প্রস্তুত ছিল।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। গতকাল (বুধবার, ২৯ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে তার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই আমাদের ও যশোরের কোতোয়ালি উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য জানানো হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক গডফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা কম থাকার সুযোগে তারা বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেছেন।’
চট্টগ্রামে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না বলেও মন্তব্য করেন এসপি মাসুদ।
পুলিশ জানায়, ফটিকছড়িতে ডেভিড ইমনকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। এ মামলায় ডেভিড ইমন ছাড়াও তার সহযোগী মো. শামীম, সাফায়েত হোসেন ও আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমালকে আসামি করা হয়। তাদেরও কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।





