চলতি বছর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সব রেকর্ডই ভাঙতে বসেছে তপ্ত ইউরোপ। বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকা মহাদেশ এটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবদাহ আর খরার তীব্রতা সূত্রপাত ঘটাচ্ছে একের পর এক বিধ্বংসী দাবানলের।
মৌসুমের চতুর্থ দাবদাহ শুরু হয়েছে স্পেনে। বুধবার উত্তরের পামপ্লোনায় তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পারদ ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার আভাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কতা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি রয়েছে অন্তত ছয়টি অঞ্চলে। আভিলা প্রদেশের বুরগোন্দোতে এক লাখ একরের বেশি এলাকা গ্রাস করেও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবানল।
হতবাক না হয়ে পারিনি। এই আগুন সত্যি বিশাল! কিলোমিটারের পর কিলোমিটার উড়ে এসে জনশূন্য ভূখণ্ড দেখেছি। সবচেয়ে বড় সম্পদ- আমাদের গ্রামাঞ্চল আর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার এ লড়াইয়ে ক্লান্ত আমরা। আগুনে এমন ধ্বংসযজ্ঞ দেখা কষ্টের।
সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমে স্পেনে দাবানলে পুড়ে ছাই হয়েছে পাঁচ লাখ একরের বেশি এলাকা। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় এক লাখের বেশি মানুষকে। সপ্তাহব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞের পর টোলেডো, মাদ্রিদ, আভিলা ও ক্যাস্টেলোনের কিছু কিছু এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বলে নিজেদের ভিটেতে ফিরতে শুরু করেছে বাসিন্দারা। ক্যাস্টেলোনের কিছু অংশে আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নতুন করেও বাড়ছে তীব্রতা।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ১০টির বেশি দাবানল এখনও সক্রিয়। তবে সর্বোচ্চ বিচক্ষণতা, সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সম্ভাব্য সকল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেশী ফ্রান্সে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আর শুষ্ক বাতাসের সতর্কতা আবহাওয়া বিভাগের। জুরান্দসহ ১৬টি অঞ্চলে জারি অরেঞ্চ অ্যালার্ট। নিরাপদ আশ্রয়ে সোয়া দুই লাখ মানুষ। আপাতত বিধ্বংসী আগুনের আঁচমুক্ত বোর্দোঁতে খানিকটা স্বস্তি ফিরলেও শহরের আকাশে, বাতাসে জুরান্দের দাবানলের ধোঁয়া আর ছাই।
স্থানীয়রা বলেন, আমি কিছুটা চিন্তিত, অন্তঃসত্ত্বা বলে এখন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, তাই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে জীবনযাপন বন্ধ। মানিয়ে নিতে হচ্ছে, মাস্ক পরব। সেই অনুযায়ী দিন শুরু হয় সকালে ঘুম ভাঙলেই বাতাসের মান পরীক্ষার মধ্য দিয়ে।
স্পেনের আরেক প্রতিবেশী পর্তুগালেও জ্বলছে আগুন। দাবানলের কবলে উত্তরপূর্বের ভিলা রিয়াল। ইতালিসহ মধ্য ইউরোপও দাবানলের ঝুঁকিতে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইমার্জেন্সি রেসপন্স কোঅর্ডিনেশন সেন্টার। ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দুই প্রতিবেশী গ্রিস-তুরস্কে এরই মধ্যে প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে দাবানল। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে এবং পেলোপোনিজ অঞ্চলে তীব্র বাতাসের মধ্যে আগুন নেভানোর সময় প্রাণ যায় কয়েকজন দমকলকর্মীর।
দমকলকর্মীরা বলেন, বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সকলের প্রচেষ্টায় হোসপাইপ ও বালতি দিয়ে পানিঢেলে এবং বাতাস সরে যাওয়ায় রক্ষা পাই। কয়েকটি বাড়ির উঠোন পর্যন্ত আগুন চলে এসেছিল।
তুরস্কের দক্ষিণপশ্চিমে আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ। তীব্র বাতাস ক্রমাগত দিক পরিবর্তন করায় বিপদে দমকলকর্মীরা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ৬০০ বাসিন্দা।
অন্যদিকে, দাবানলের কবলে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কালিমান্তান প্রদেশ। শতাধিক বিচ্ছিন্ন আগুনের কারণে মঙ্গলবার থেকেই পালাংকারায়া শহরে সতর্কতা জারি আছে এল নিনোর কারণে বাতাসে শুষ্কতা বাড়ায় দেশটিতে বৃষ্টি কমে গেছে ৪৭ শতাংশ।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



