‘আমাকে ফাঁসি দেয়া হোক’ বললেন লতিফ সিদ্দিকী

লতিফ সিদ্দিকী
লতিফ সিদ্দিকী | ছবি: এখন টিভি
0

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় নিজের ফাঁসি দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার পর আদালতকক্ষে কাঠগড়া থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমাকে ফাঁসি দেয়া হোক।’

আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই) শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদেশের সময় লতিফ সিদ্দিকী আদালতের কাছে কিছু বলার অনুমতি চান। তবে তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দিয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে কথা বলার নির্দেশনা দেন ট্রাইব্যুনাল। আইনজীবীরা জানান, মামলার এ পর্যায়ে আসামির বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ নেই।

পরে তাকে কাঠগড়া থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি উচ্চৈস্বরে বলেন, ‘আমাকে ফাঁসি দেয়া হোক।’

শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার ছোটভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

আরও পড়ুন:

এদিন রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। দুপুর ১টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকীকে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আরও পড়ুন:

১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধেরর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া আসামিদের মধ্যে পলাতক ৩১ জনের নামে গ্রেপ্তানি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পলাতকদের মধ্যে ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী।

একইসঙ্গে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ঠিক করেছেন আদালত। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে ওইদিন ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এসএস