স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ইতিবাচক গতিধারায় উভয় নেতাই গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল রাখতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের আগে পপুলেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড মাইগ্রেশন (পিআরএম) ব্যুরোর অফিসে ব্যুরোটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু ভেপ্রেকের সঙ্গে আরেকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠককালে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মার্কিন সরকারের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। এসময় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিআরএম ব্যুরো একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করে।
মার্কিন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি শামা ওবায়েদ ইসলাম ওয়াশিংটন ডিসিতে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সদর দপ্তরে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ড. ড্যানিয়েল টুইনিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এসময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে আইআরআইয়ের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতকরণে আইআরআইয়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধিদলের গঠনমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সেইসঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র, তরুণদের ক্ষমতায়ন, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
এ দিন বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় থিংক ট্যাংক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’-এ আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পররাষ্ট্রনীতির প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
বক্তব্যে তিনি বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্কের বিষয়ে বাংলাদেশের রূপকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। এই হাইব্রিড (সরাসরি ও অনলাইন) ইভেন্টে অংশ নেয়া অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
গোলটেবিল বৈঠক শেষে তিনি আটলান্টিক কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনা বেন-ইহুদার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবিধানিক গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘু অধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের প্রতি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ ধারণা তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও বৃহত্তর ভূমিকার আহ্বান জানান।
সবগুলো কর্মসূচিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, আইআরআই ও আটলান্টিক কাউন্সিলের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রদান করেন।





