বিএনপির দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল কারখানা তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
উপস্থিত জন সাধারণের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতির নামে যদি কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, রাজনীতির নামে যদি কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় আপনারা কি বসে থাকবেন? আমরা কেউ বসে থাকবো না। শক্ত হাতে প্রতিহত করবো।’
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এ অনুষ্ঠান হয়। চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০ টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সঙ্গীত ও পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম,মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর ল্যাপটপের বাটন টিপের সাথে সাথে চাঁদপুরসহ আরও ২০টি জেলার সুবিধাভোগী (১৫ হাজার নারী) প্রত্যেকের কাছে নগদ অর্থ (আড়াই হাজার টাকা) চলে যায়।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এর প্রত্যেকটি কর্মসূচি হচ্ছে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থে। আর এ লক্ষ্যেই আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। দেশের মানুষ এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এখন হচ্ছে আমাদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পালা।’
প্রধানমন্ত্রী সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন সময় কাজ করার, এখন সময় দেশ গড়ার। তাই আসুন দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়ি। এ জনসভায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই যাতে আমাদের দেশ গড়ার পথে কেউ বাধাগ্রস্ত না করতে পারে। এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আসুন আমরা এ শর্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ সময় চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানান।
দেশের মানুষ শান্তি চায়, স্থিতিশীলতা চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু মানুষ একটি মহল বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি করছে। আজকে আপনাদেরকে সামনে রেখে আমি পরিষ্কার ভাবে বলে দিতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম দেশের মানুষ তার পক্ষে রায় দিয়েছে। কাজেই আমরা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সে সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছি। এ সকল প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমিকভাবে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’
ফ্যামিলি কার্ডের এ অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল আহমেদ,সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ বেগম হীরা, চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম এবং সমাজ কল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া রুমা আখতার ও মনোয়ারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) সহ জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




