যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী হত্যা: ‘দ্বিমুখী পুলিশিং’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা

বিক্ষোভ মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে
বিক্ষোভ মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাজ্যে এক ছাত্র হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক ঝড়ে এবার ঘি ঢেলেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে চলমান বিতর্কের মধ্যে ব্রিটিশ পুলিশের ‘মতাদর্শগত কন্ডিশনিং ও দ্বিমুখী পুলিশিং’ বা দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। একে ‘সভ্যতার পতনের লক্ষণ’ হিসেবেও অভিহিত করেছে তারা।

গত বছর ইংল্যান্ডে হেনরি নোয়াক নামের ১৮ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ তরুণ ছুরিকাঘাতে আহত হন। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগমুহূর্তে পুলিশ তাকে হাতকড়া পরায়। ওই সময় তার হত্যাকারী এক শিখ যুবক মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে, নোয়াক বর্ণবাদী হামলা চালিয়েছেন। গত সোমবার ওই খুনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নোয়াক যখন মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা তার আকুতি কানেই নিচ্ছিলেন না। নোয়াক বারবার বলছিলেন যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। এরপরও পুলিশ কেন হত্যাকারীর বর্ণবাদের অভিযোগকে বিশ্বাস করেছিল এবং নোয়াকের কথায় গুরুত্ব দেয়নি, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা নাইজেল ফারাজ এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী পুলিশিং’-এর অভিযোগ আরও জোরালো করেছেন। তাদের দাবি, বর্ণবাদী তকমা পাওয়ার ভয়ে পুলিশ এখন জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘মতাদর্শগত কন্ডিশনিং ও দ্বিমুখী পুলিশিং সভ্যতার পতনের স্পষ্ট লক্ষণ। পশ্চিমা বিশ্বজুড়ে এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত। এই সংকটময় সময়ে হেনরি নোয়াকের পরিবার ও যুক্তরাজ্যের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এই ঘটনায় পুলিশের অনেক প্রশ্নের জবাব দেয়ার আছে। বিশেষ করে বর্ণবাদের অভিযোগ পুলিশের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতের সহিংস বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। নাইজেল ফারাজ জনগণকে ‘কঠিন ক্রোধ’ নিয়ে মাঠে নামার যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিকে উত্তেজনা ছড়ানোর উসকানি বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া ইলন মাস্কের বারবার পোস্ট করা মন্তব্যের জবাবে স্টারমার তাকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন। মাস্ক দাবি করেছিলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে ব্রিটিশ পুলিশ শ্বেতাঙ্গদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

স্থানীয় পুলিশ বিভাগ কোনো ধরনের পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, পুলিশের কর্মকাণ্ডে জাতিগত ভিন্নতার বিষয়টি কীভাবে দেখা হবে—এমন নির্দেশিকাগুলো তারা পুনর্মূল্যায়ন করবে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছে নোয়াকের পরিবার। তারা পুলিশের আচরণকে ‘অমানবিক ও অবমাননাকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তারা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নোয়াকের মৃত্যুকে যেন ‘বিভাজন, ঘৃণা বা উত্তেজনা’ তৈরির কাজে ব্যবহার করা না হয়।

শুক্রবার স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, মার্কিন সরকারের সমবেদনাকে তিনি স্বাগত জানান। তবে ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থায় ‘দ্বিমুখী নীতি’ রয়েছে—এমন অভিযোগকে তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

এএম