মো. সূর্যত আলীর ছেলে মোশাররফ, পরিবারের সদস্য বলতে স্ত্রী ও দুই ছেলে আছে। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ৩ বছর আগে মাত্র ৩ মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আবারও সংসারের হাল ধরতে ফিরে গিয়েছিলেন প্রবাসে।
রোববারও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল। মোশাররফের স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, রাতে কথা হয়েছিল স্বামীর সঙ্গে। মোশাররফ বলেছিলেন, ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলে দু’টির জন্য কিছু কিনে নিতে। কিন্তু কে জানতো সেই কথাই হবে শেষ কথা! রাত প্রায় ৩টার দিকে খবর আসে মোশাররফ হোসেন আর নেই।
আরও পড়ুন:
এই সংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার, মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে—হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি, তার বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না।
একজন প্রবাসীর স্বপ্ন ছিল শুধু—পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু দূর প্রবাসে মিসাইলের আঘাতে থেমে গেলো সেই স্বপ্ন, নিঃস্ব করে দিয়ে গেলো একটি পরিবারকে।
মা জহুরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের মরদেহ দ্রুত ফেরত চাই। আমার ছোট নাতি মিহান এখনো বুঝে উঠতে পারেনি, তার বাবা আর কোনো দিন ঘরে ফিরবেন না। সরকারসহ সবার সহযোগিতা চাই।’
সখীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে।’





