চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে এভিয়েশন খাত। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের এক সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী বাতিল হয় ২০ হাজারের বেশি ফ্লাইট। বিমানবন্দরে এয়ারক্রাফট থেমে থাকায় বড় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে উড়োজাহাজ সংস্থা।
একই সময়ে কেবল ঢাকা থেকেই বাতিল হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যগামী দুই শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস বাংলাসহ বিদেশি সাতটি উড়োজাহাজ সংস্থা এ তালিকায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য রুটে সর্বনিম্ন ১৬২ ও সর্বোচ্চ ৪১৯ আসনের চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। ইউএস বাংলার রয়েছে তিনটি আলাদা ফ্লাইট। এ রুটগুলোর বেশিরভাগ ফ্লাইট এখন স্থগিত হয়ে আছে।
গত অর্থবছরে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকার রেকর্ড পরিমাণ আয় করা বিমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সংকটে পড়তে পারে বলছেন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রুটে সাফল্য পাওয়ায় ইউএস বাংলারও একই পরিস্থিতি। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ণয় সম্ভব না হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যক্রম স্থগিত থাকলে উড়োজাহাজ সংস্থা চরম সংকটে পড়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শুধু মাত্র আয় হয় না আর বাকি সব খরচ বহাল থাকে। একটা এয়ারলাইন্সকে যদি টিকে থাকতে হয় তাহলে নিয়মিত অপারেশনে থাকতে হবে। যদি অপারেশনে না থাকে তাহলে এয়ারলাইন্স চরম সংকটে পরতে পারবে। এমনকি বন্ধ ও হতে পারে এয়ারলাইন্স।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, ‘ফ্লাইট গুলো বসে আছে। প্রতিদিন যে আয়টা আসতো তা আসতেছে না আমাদের। ফ্লাইট যাচ্ছে না মানে আমাদের ইনকাম নাই। বিশাল ক্ষতি হচ্ছে আমাদের।’
এভিয়েশন বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার পর এটিই ভয়াবহ বিপর্যয়। এ সংকট কাটানো কঠিন হয়ে যাবে। দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে কোন কোন উড়োজাহাজ সংস্থা।
এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘এয়ারলাইনগুলোকে একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে হবে। এয়ারলাইনগুলো যখন বিপর্যয় মোকাবিলা করবে। সঙ্গে সঙ্গে তারা কিন্তু যাত্রীদের ওপরে শিফট করে দেবে। সব তো আর এয়ারলাইনের বহন করা সম্ভব না হবে না। সেক্ষেত্রে অনেক এয়ারলাইন দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।’
আরও পুড়ন:
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান বলছেন, বৈশ্বিক এই ক্ষতি মেটাতে গেলে টিকিটের দাম বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। যার প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীদের উপর। বিশেষ করে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উপর চাপ বাড়বে।
বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো: মফিদুর রহমান বলেন, ‘টিকিটের দাম করোনার পর এমনিতেই বেড়ে গেছে। এই যুদ্ধের কারণেও টিকিটের দাম বেড়ে যেতে পারে এবং দিন শেষে এর ভোগান্তিতে পারবে যাত্রীরা। বিশেষ করে আমাদের যারা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আছে তাদের জন্য বিষয়টা আরও কষ্টকর হবে।’
এমন পরিস্থিতি বিমানের মতো অন্যান্য সংস্থাগুলোও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশেও দাঁড়াতে হবে সরকারকে।





