সংস্থাটি মনে করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অবাধ তথ্য প্রবাহ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশেষ করে ভোটারদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এবং ভোটারের আস্থা ও অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করার মতো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অবিলম্বে এ ধরনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আহ্বানও জানায় সংস্থাটি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ফোনসহ প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হলে লক্ষ্যভিত্তিক ও যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ দরকার। কিন্তু ভোটারের মৌলিক প্রয়োজন যোগাযোগ, নিরাপত্তা, জরুরি সহায়তা— এসব উপেক্ষা করে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ মূলত “মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার” মতো সিদ্ধান্ত। এতে বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার তথ্য প্রবাহ, স্বচ্ছতা ও জনআস্থায় ভাঙন ধরার ঝুঁকি বাড়ে। তাছাড়া, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়।’
তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ, পর্যবেক্ষণযোগ্যতা, অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত থাকা জরুরি। মোবাইলের ওপর সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ সেই পরিবেশকে সীমিত করে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।’
আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের কাজের ক্ষেত্রেও বাস্তব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সারা দেশে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক প্রধানত মোবাইল ব্যবহার করেই তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ, ছবি ও ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে থাকেন। আবার অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলের মাধ্যমেই জনসমক্ষে এসেছে। ফলে এ নিষেধাজ্ঞা একদিকে যেমন তথ্যপ্রবাহকে সীমিত করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করে, অন্যদিকে নির্বাচন ঘিরে কোনো দুরভিসন্ধি, সহিংসতা, বলপ্রয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ্যে প্রতিবন্ধক হিসেবে এ সিদ্ধান্ত বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।’
এ নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ বিভিন্ন কারণে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, ‘কোনো ভোটার যদি নিরাপত্তা শঙ্কায় ভোগেন বা জরুরি পরিস্থিতিতে পড়েন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা চাইতে বা যোগাযোগ করতে কীভাবে সক্ষম হবেন— সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এমন সিদ্ধান্ত রীতিমতো অপরিণামদর্শী। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে আগত ভোটারদের জন্য এটি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
একই সঙ্গে তিনি জানান, ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে বিস্তৃত এলাকায় ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি, হয়রানি এবং নির্বিচার জবাবদিহিহীন ক্ষমতা প্রয়োগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করে টিআইবি।’
এছাড়া ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহনে আরোপিত সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।





