এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ‘ব্ল্যাকআউট’ কিউবা

‘ব্ল্যাকআউট’ কিউবা
‘ব্ল্যাকআউট’ কিউবা | ছবি: বিবিসি
0

সপ্তাহ ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিকল কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড। এতে কোটির বেশি বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র তেল অবরোধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

বারবার বিপর্যয়ের মুখে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড। শনিবার দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থা সম্পূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়- চরম বিপাকে পড়েন বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মধ্য একজন বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না এখন আর কী করা যেতে পারে। লোকেরা সাধারণত রাস্তায় এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়, গল্পগুজব করে। আমার মনে হয় এর বেশি কিছু করার নেই।’

অন্য একজন বলেন, ‘সপ্তাহে দুইবার, কাঠ দিয়ে রান্না করা এটাই আমাদের নিয়তি। কোনো সমাধানের সম্ভাবনা কম, ৬০ বছর ধরে এই একই পরিস্থিতিতে আটকে আছি। এর কোনো পরিবর্তন হবে না।’

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা সামাজিক মাধ্যমে জানায়, তাদের পিক হাওয়ারে বিদ্যুৎ ঘাটতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে, সোমবারও দেশব্যাপী বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি অচল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কিউবা দখলের আগ্রহের কথা প্রকাশ করে। এর আগে ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্দি করার পর থেকে কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটিতে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প। পাশাপাশি কিউবার কাছে তেল বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপেরও হুমকি দেন তিনি। এর ফলে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রাচীন বিদ্যুৎ গ্রিড কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, হাভানা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই সংলাপ ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ ছাড়া হবে।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, ‘হাভানা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিংবা নিজ নিজ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ না করে, একটি আন্তরিক ও দায়িত্বশীল সংলাপে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী।’

জ্বালানির অভাবে দ্বীপটিতে পর্যটন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, হাসপাতালগুলোতে পরিষেবা কমে গেছে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে আনতে পারছেন না।

এসএস