দেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা আর আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে স্মার্টফোনের বাজার। যার বর্তমান আকার প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।
এ বিশাল বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। ১৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে প্রিমিয়াম ও মিড-বাজেট উভয় বিভাগেই তাদের আধিপত্য অটুট। তবে প্রায় ১৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ে ঠিক পেছন থেকেই কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে চীনা ব্র্যান্ড শাওমি।
বাজারে অন্য প্রতিযোগীরাও ক্রমে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। চীনা ব্র্যান্ড অপো ও ভিভোর মূল লক্ষ্য এখন দেশের তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। পিছিয়ে নেই দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটনও, বাজেট সেগমেন্টে তারা ক্রমেই শক্তিশালী করছে নিজেদের অবস্থান। আর টেকনো ও আইটেলের মতো ব্র্যান্ডগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে ফিচার দেয়ায়, প্রান্তিক ও স্বল্পআয়ের ক্রেতাদের কাছে হয়ে উঠছে জনপ্রিয়।
বাজারে নতুন প্রযুক্তির হ্যান্ডসেটের কমতি নেই, তবে ক্রেতাদের প্রধান অভিযোগ পণ্যের চড়া দাম। ক্রেতারা জানান, আগে যেখানে ২০ হাজারের মধ্যে যে ফোনটা পাওয়া যেত সেটা এখন ২৭-২৮ হাজার। এছাড়াও প্রতিফোনে ৫-৭ হাজার টাকা বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্যের চড়া দাম থাকলেও এ প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে ডিজিটাল ফাইন্যান্সিং। বর্তমানে দেশের মোট মোবাইল ফোন বিক্রির প্রায় ২০ শতাংশই হচ্ছে সহজ কিস্তি বা ইএমআই সুবিধার মাধ্যমে।
একজন বিক্রেতা বলেন, ‘অল্প কিছু টাকার মধ্যে পছন্দের কাঙ্ক্ষিত স্মার্টফোনটি এখন পারচেজ করতে পারছে। তার যে বিগ অ্যামাউন্টটা আসে, সেটা সে মাসিক হিসাব করে ছোট একটা অ্যামাউন্টে সে পরিশোধ করতে পারছে। এটা অবশ্যই কাস্টমারদের জন্য খুব ভালো একটা বেনিফিশিয়াল সাইড। আর হ্যাঁ, কিস্তির জন্য আমাদের সেলটা আপাতত বাড়ছে।’
বর্তমানে বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্র্যান্ডের ফোন দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে। এই খাত থেকে সরকার বছরে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে বার্ষিক স্মার্টফোন বিক্রি ২০ লাখে উন্নীত করা। তখন এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ১৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।





