গতকাল (শুক্রবার, ৫ জুন) রাত সাড়ে এগারোটার দিকে আগুন লাগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ৯ নম্বর গেইটের কার্গো ভিলেজের কুরিয়ার শেডে। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। যদিও বিমান বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। সঙ্গে যোগ দেয় বিমানবন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক দলও। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই আগুন নেভাতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস।
পরে ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন পরিচালক কর্নেল মাহমুদুল হাসান জানান, সবার সমন্বিত চেষ্টায় রাত একটার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা যায়নি। কুরিয়ার সার্ভিস ডিএসএলের একটি গোডাউনে আগুন লেগেছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক কর্নেল মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে সমর্থ হই। এবং ১টা ৫ মিনিটে এ আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করতে সমর্থ হই। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্বাপণ করার সম্পূর্ণ সম্ভব হয় নাই। এটা আমাদের তদন্ত সাপেক্ষে এবং পরবর্তীতে এটা বের করা যাবে।
‘কুরিয়ার অপারেশনের একে আমি আগেই বলেছি, এখানে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল নরমালি যেগুলো মালামাল আসে, সেই মালামালগুলোই এখানে এসেছে। বিভিন্ন ধরনের মালামাল আছে সব। সূত্রপাত এটা আসলে তদন্ত করে বলতে হবে, এটা এ মুহূর্তে বলা খুব ডিফিকাল্ট।’
এসময়ের মধ্যে বিমান উঠানামায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ বলেন, ‘কিছু ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, বেশ কিছু মালপত্র যেগুলো পুড়েছে এবং এগুলো ছোট ছোট, বড় কার্গো না।
‘এখানে আমাদের যেটা কুরিয়ারগুলো আসবে ট্রানজিট হিসেবে, অত দ্রুততার সঙ্গে আমাদেরকে এটাকে ক্লিয়ার করা উচিত। বাট আস্তে আস্তে এটার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রায় ১৪৭ টন কার্গো, মানে কুরিয়ার এখানে জমা হয়ে আছে। এটা তো আসলে থাকা উচিত না।’
গত বছরের ১৮ অক্টোবর দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলো ফায়ার সার্ভিস। বন্ধ ছিলো সব ধরনের বিমান ওঠানামা।





