পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। যেকোনো সময় তেহরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রপথের পাশাপাশি আকাশপথে সামরিক শক্তি জোরদারের পর হামলার শঙ্কা আরও তীব্র হচ্ছে। এদিকে পাল্টা জবাব দিতে নিজেদের শতভাগ প্রস্তুত রেখেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি হবে তাদের লক্ষ্যবস্তু।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক ইস্যুতে জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় দুই দেশ। এর আগে আরও দুই দফার আলোচনাকে ইতিবাচক দাবি করলেও কার্যকর কোনো সমাধানে আসতে পারেনি তারা। শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি কিছুতেই মেনে নেবে না ইরান।
আরও পড়ুন:
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দাবি, ইরান আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুতর হুমকি। আর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে, এমন যথেষ্ট প্রমাণ আছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।
এদিকে, তৃতীয় দফার আলোচনায় ইতিবাচক ফলাফলের বিষয়ে আশাবাদী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সুরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ন্যায়সংগত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। ইরান ছাড় দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত ইরান। চলমান উদ্বেগ দূর করতেও রাজি তেহরান। তবে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার ত্যাগ করবে না ইরান। এটাই ইরানের অন্যতম দাবি। জেনেভায় এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এবারের আলোচনা ব্যর্থ হলে চলমান সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়বে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।





