লিকুদ পার্টি এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, নেতানিয়াহু নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং ‘ঈশ্বর চাইলে তিনি জয়ী হবেন’। এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবে অক্টোবরের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে এবিসি নিউজের প্রধান ওয়াশিংটন প্রতিনিধি জোনাথন কার্ল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ট্রাম্প তাকে বলেছেন যে তিনি নিশ্চিত নন নেতানিয়াহু আবার নির্বাচনে দাঁড়াবেন কি না। কার্লের উদ্ধৃতি অনুযায়ী ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না, তার ক্যারিয়ার তো দারুণ। তিনি কি এটি চালিয়ে যেতে চান?’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই হবে ইসরাইলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই হামলাকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার জেরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থি জোটের নেতৃত্বে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই টালমাটাল সময় পার করছেন নেতানিয়াহু। গাজা, লেবানন ও ইরান যুদ্ধের আগেও তিনি ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আগামী নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হতে পারে। ৯ জুন জেরুজালেমভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ‘ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট’ প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়, ৬১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন নেতানিয়াহুর নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত নয়। তবে বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য জোটও আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কে কিছু টানাপোড়েন দেখা গেছে। বিশেষ করে তেহরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় লেবাননে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা কমানোর দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, যদিও পরে বলেন তাদের সম্পর্ক ভালোই আছে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার আহ্বানও ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের প্রতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহু অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।





